নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে উত্তাল মগরাহাট, কমিশনের নজরে রাজীব কুমার

magrahat-unrest-highlights-security-gaps-commission-flags-role-of-rajeev-kumar
magrahat-unrest-highlights-security-gaps-commission-flags-role-of-rajeev-kumar

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) মধ্যে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। যে প্রশ্ন এতদিন বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের মুখে শোনা যাচ্ছিল, এবার সেই প্রশ্নই উঠে এল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠির মাধ্যমে। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের কাছে সরাসরি রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। নয়াদিল্লি থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে মগরাহাটে বিশেষ পর্যবেক্ষকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে (SIR) সংক্রান্ত কাজ চলাকালীন। ওই কাজে গিয়েই বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগান বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের তরফে আগাম জানানো সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন(Election Commission) ।

   

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, মহকুমা শাসক এবং জেলার পুলিশ সুপারকে বিশেষ পর্যবেক্ষকের কর্মসূচি সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কেন কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিশেষ পর্যবেক্ষককে কোনও নিরাপত্তা ছাড়াই নিজের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এই ঘটনা রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের গুরুতর ত্রুটিরই প্রতিফলন।” কমিশনের মতে, বিশেষ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কাজের দায়িত্বে থাকেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজ্য প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সেখানে এই ধরনের অবহেলা শুধু একজন আধিকারিকের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে না, বরং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এই কারণেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission) রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। কী পরিস্থিতিতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিরাপত্তা ছাড়াই এলাকায় গিয়েছিলেন, ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, এবং পরে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে—এই সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাও জানাতে বলা হয়েছে।

মগরাহাটের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতেও নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে না পারা মানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই দুর্বল করা। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের একাংশের বক্তব্য, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক নয়। রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের অন্দরেও এই চিঠি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিশনের চাওয়া রিপোর্ট কীভাবে তৈরি করা হবে এবং কোন কোন বিষয় তুলে ধরা হবে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, স্থানীয় থানার রিপোর্ট এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বক্তব্য খতিয়ে দেখে কমিশনকে বিস্তারিত জবাব পাঠানো হতে পারে।

 

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন