কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই (Left ISF alliance talks)রাজনীতির ময়দানে ফের সক্রিয় হচ্ছে জোট-রাজনীতি। অতীতে ওঠানামা, মতানৈক্য ও দূরত্বের পর ফের মুখোমুখি হল বামফ্রন্ট ও আইএসএফ নেতৃত্ব। শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্টের সদর দফতরে বৈঠকে বসেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ও তাঁর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, তা নিয়েই মূলত এই আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
হুমায়ুন কবিরের ছেলেকে আটক করে তদন্ত শুরু পুলিশের
এই বৈঠক নতুন নয়, বরং আগের ধারাবাহিকতারই অংশ। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও বাম ও আইএসএফ নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। তবে শনিবারের বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, কারণ বিধানসভা ভোট আর বেশি দূরে নয়। তাই ভোটের আগে জোট সংক্রান্ত সব জটিলতা মিটিয়ে ফেলার তাগিদ স্পষ্ট দুই পক্ষের মধ্যেই।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নওশাদ সিদ্দিকী জানান, আলোচনা মূলত রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়েই হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি বেশ কয়েক মাস আগেই বলেছিলাম, আলোচনা হওয়া দরকার। কংগ্রেসকেও চিঠি দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি। বিমান বসুকে আগেই চিঠি দিয়েছিলাম, তিনি উত্তর দেন। তারপর থেকেই আলোচনা শুরু হয়। কোন এলাকায় কোন দলের প্রার্থী হলে সুবিধা হবে, কীভাবে লড়াইটা সংগঠিত করা যায় এই সব নিয়েই কথা হয়েছে।”
তবে আসন সমঝোতা বা নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন ভাগাভাগির বিষয়টি এখনও আলোচনায় আসেনি বলেই জানান নওশাদ। তাঁর দাবি, “টাকা-পয়সার হিসেব বা আসন ভাগাভাগির আলোচনা এখনও হয়নি। এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিজেপি ও তৃণমূলকে কীভাবে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা যায়।” অর্থাৎ আপাতত রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও যৌথ লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরিতেই জোর দিচ্ছে দুই পক্ষ।
এই জোটের অতীত অবশ্য খুব একটা মসৃণ নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম, কংগ্রেস ও আইএসএফ একজোট হয়ে লড়াই করলেও ফলাফল ছিল হতাশাজনক। ওই নির্বাচনে মাত্র একটি আসন পায় আইএসএফ, বাম বা কংগ্রেস কেউই খাতা খুলতে পারেনি। সেই ফলাফলের পর থেকেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু আসন সমঝোতা নিয়ে সিপিএম ও আইএসএফ একমত হতে না পারায়, শেষ পর্যন্ত তারা পৃথকভাবেই নির্বাচনে লড়াই করে। যদিও পরে উপনির্বাচনে ফের একসঙ্গে লড়াই করে দুই দল। এই ওঠানামার মধ্যেই আবার নতুন করে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল ও বিজেপির বাইরে একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক মেরু গড়ে তুলতে গেলে বাম ও আইএসএফের মধ্যে বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতীতের ব্যর্থতা ও পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে কতটা সফল হয় এই আলোচনা, সেটাই এখন দেখার। সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে আলিমুদ্দিনে হওয়া এই বৈঠক নতুন করে জোট রাজনীতির সম্ভাবনাকে উস্কে দিল। শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা বাস্তব রূপ নেয় কিনা, নাকি আবারও থমকে যায় সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।
