কলকাতা: মঞ্চে গান গাইতে উঠেছিলেন ‘বসন্ত এসে গেছে’ খ্যাত গায়িকা লগ্নজিতা (Lagnajita Chakraborty attacked)। গানের কথায় জাগো মা শব্দ উচ্চারণ করতেই তৃণমূল নেতা মেহবুব মল্লিকের হুমকি। “সাম্প্রদায়িক জাগো মা ছাড়, সেক্যুলার গান গা।” আর এই ঘটনাতেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
রীতিমত প্রাণ হাতে করে মঞ্চ থেকে নামতে হল লগ্নজিতাকে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে। লগ্নজিতা অভিযোগ করেন মেহবুব তাকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করতেই মঞ্চে উঠেছিলেন। থানায় এই ইস্যুতে অভিযোগ জানালে অনেক টালবাহানার পর অভিযুক্ত মেহবুবকে গ্রেফতার করে ভগবানপুর থানার পুলিশ।
যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডে ‘বিস্ফোরক’ ভাইচুং, নিশানায় কে?
লগ্নজিতার এই হেনস্থার ঘটনা নিয়ে বিবৃতি চাওয়া হয়েছিল বাংলাপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা কৌশিক মাইতির কাছে। কিন্তু কৌশিক মাইতি বলেন তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। বাংলাপক্ষ এখন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের হিন্দু বাঙালিদের নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত।
তাকে পুরো ঘটনা জানানো হলে তিনি বলেন সংবাদ মাধ্যমের মতামতের উপর দাঁড়িয়ে তিনি কোনও বিবৃতি দেবেন না। লগ্নজিতার হেনস্থা হওয়ার বা তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এমন কোনো ভিডিও না পেলে তিনি কোনও বিবৃতি দেবেন না।
কৌশিক মাইতির এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই উঠে আসে ২০১৯ সালের একটি ঘটনা। বিদ্যাসাগর কলেজে মূর্তি ভাঙা হয়। সেই ঘটনার ও কোনও সিসিটিভি ফুটেজ মেলেনি। কিন্তু বাংলাপক্ষ সেই সময়ে বলেছিল, এই কাজ বিজেপির। কিন্তু আজও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ ছাড়াই বাংলাপক্ষ ঠিক করে ফেলল যে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পিছনে কে বা কারা রয়েছে।।
শুধু এই একটি ঘটনা নয়। এমন আরও অনেক ঘটনাই ভারতের বুকে ঘটে যায় যার কোনো ফুটেজ নেই। কিন্তু সেই ইস্যু গুলোতেও বাংলাপক্ষ রাস্তায় নেমে মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। সবচেয়ে বড় কথা কৌশিক বলেছিলেন যে তারা এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে নিয়ে ভীষণ ব্যাস্ত। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভারত বিদ্বেষী ধ্বংসলীলা এবং হিন্দু বাঙালি যুবকের খুনের প্রতিবাদ করতে ব্যস্ত বাঙলাপক্ষের টিম।
কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার নিজের রাজ্যেই যখন বাঙালিরা হেনস্থা হচ্ছে এবং তৃণমূলের নেতা মেহবুব মল্লিকের মত হিন্দু বিরোধী মৌলবাদীরা সেক্যুলার গান নিয়ে লগ্নজিতা সহ গোটা বাংলার মানুষকে আক্রমণ করছে, সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে বাংলাপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ দরকার।
তবে ধৃত মেহবুব মল্লিকের ভাই মাসুদ মল্লিক দাবি করেছেন যে জাগো মা গান গাইছিলেন লগ্নজিতা এবং এই গানটি তাদের সাম্প্রদায়িক গান বলে মনে হয়েছে। যেহেতু এই অনুষ্ঠানটি একটি স্কুলের অনুষ্ঠান ছিল তাই তিনি গায়িকাকে একটি সেক্যুলার গান গাইবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে জনৈক গায়িকা তা গাইতে অস্বীকার করেন এবং অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। তারপর গায়িকা থানায় গিয়ে মেহবুবের নামে মিথ্যে অভিযোগ করেন।
তবে লগ্নজিতার এই ঘটনা এবং বাংলাপক্ষের নীরবতা নিয়ে সরব হয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন এই ঘটনা বাংলা এবং বাংলার সংস্কৃতির পক্ষে যে খুব সুখকর বার্তা বয়ে নিয়ে আসছে না তা বলাই বাহুল্য। তারা আরও বলেন এর সঙ্গে বাংলাপক্ষের বিবৃতি না দেওয়া এবং তার সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ নেই এই অজুহাত দেখানোর ঘটনা বাংলাপক্ষের দ্বিচারিতাকেই তুলে ধরে এবং তথাকথিত বাঙালির সংগঠনের পিছনে লুকিয়ে থাকা মুখোশ পরা শাসকের স্তাবকতার পরিচয় দেয়।
