
কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টে আই-প্যাক ইডি অভিযানের বিতর্কিত (I-PAC ED)মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। আজ শুক্রবার জোড়া মামলার শুনানি এজলাসে অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা এবং ভিড়ের কারণে মুলতবি হয়ে গিয়েছিল। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে শুনানি শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিচারপতি এজলাস ছেড়ে চলে যান এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি।
এর মধ্যেই সূত্রের খবর, ইডি প্রধান বিচারপতিকে মেইল করে আজই জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়েছে এবং বিচারপতি বদলের দাবি তুলেছে। এই ঘটনা রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।গত ৮ জানুয়ারি ইডি কয়লা চুরির মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের তদন্তে আই-প্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে অভিযান চালায়।
ভারতে খেলতে আসবে না বাংলাদেশ! আইসিসিকে চিঠি বিসিবির
অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যান এবং কিছু ফাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডি এটিকে তদন্তে বাধা এবং প্রমাণ সরানোর অভিযোগ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে, যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুক্ত করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস এবং আই-প্যাক কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করে। প্রতীক জৈনের পরিবারও ইডির বিরুদ্ধে চুরি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশে এফআইআর করেছে।
আজ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের একক বেঞ্চে এই দু’টি মামলার যৌথ শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এজলাসে আইনজীবী, দলীয় প্রতিনিধি এবং অন্যান্যদের অত্যধিক ভিড়ের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বিচারপতি বারবার অপ্রাসঙ্গিক লোকজনকে বাইরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি এজলাস ত্যাগ করেন এবং মামলা মুলতবি করে ১৪ জানুয়ারির তারিখ দেন।
এই ঘটনা হাইকোর্টের ইতিহাসে বিরল বলে মনে করা হচ্ছে।এর পরই ইডির তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। সূত্রের খবর, তারা প্রধান বিচারপতিকে মেইল করে জরুরি ভিত্তিতে আজই শুনানির আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিচারপতি বদলের দাবি তুলে অন্য বেঞ্চে মামলা স্থানান্তরের আর্জি করা হয়েছে। ইডির যুক্তি, এজলাসের বিশৃঙ্খলা তাদের তদন্তের গুরুত্বকে প্রভাবিত করছে এবং নিরপেক্ষ শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ দরকার।
তৃণমূলের তরফে অবশ্য এটিকে কেন্দ্রের চাপের ফল বলে দাবি করা হচ্ছে। দলের মুখপাত্ররা বলছেন, ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। এই মামলার পটভূমিতে রয়েছে কয়লা স্ক্যামের দীর্ঘ তদন্ত। ইডি দাবি করছে যে, হাওয়ালা টাকা আই-প্যাকের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়েছে এবং অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন যে, ইডি দলের নির্বাচনী কৌশল এবং গোপনীয় তথ্য চুরি করার চেষ্টা করছিল।










