
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। সুপ্রিম কোর্টে ইডি র (Mamata Banerjee)আবেদনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্য সরকারকে নোটিশ জারি করা হয়েছে। আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে তল্লাশির সময় রাজ্য পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযুক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগে ইডি চাইছে সিবিআই তদন্ত। আদালত রাজ্য পুলিশের দায়ের করা তিনটি এফআইআর-এর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনায় রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।” তিনি আরও বলেন আইন নিজের পথেই চলবে। আইনের উর্ধে কেউ নয় এবং শীর্ষ আদালতের উপর তার যথেষ্ট ভরসা আছে। রাজ্যপাল স্পস্টতই তার মন্তব্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন আইপ্যাক কাণ্ডে মমতার হস্তক্ষেপে তিনিও শাস্তি চাইছেন।
জন্মদিনেও অনুশীলনে হাজির থাপা, পুরনো ছন্দে রবিনহো
৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাক অফিস ও তার কো-ফাউন্ডার প্রতীক জৈনের বাড়িতে এডি তল্লাশি চালায়। কয়লা পাচারের মানি লন্ডারিং মামলার অংশ হিসেবে এই অভিযান। এডির অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তে বাধা দেন, নথি-ডিভাইস ছিনিয়ে নেন। রাজ্য পুলিশও অফিসারদের ঘিরে ফেলে।
ইডি এটাকে ‘চুরি, ডাকাতি’-র মতো অপরাধ বলে দাবি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এমন হস্তক্ষেপ চলতে দিলে রাজ্যে ‘আইনশৃঙ্খলাহীনতা’ ছড়িয়ে পড়বে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিপুল এম পঞ্চোলির বেঞ্চ বলেছে, এটা গুরুতর বিষয়। রাজ্যকে দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে, পরবর্তী শুনানি ৩ ফেব্রুয়ারি।
এই পরিস্থিতিতে রাজভবন থেকে গভর্নর আনন্দ বোসের প্রতিক্রিয়া এসেছে। তিনি বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।” ইডি অভিযানে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে আগেই তিনি বলেছিলেন এটা আইনত দণ্ডনীয় এবং সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন। মুখ্যমন্ত্রী একজন সাংবিধানিক পদাধিকারী, তাঁর কাজ সংবিধান রক্ষা করা। কিন্তু এমন কাজ করে তিনি নিজের পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন বলে গভর্নরের মত।
একই দিনে আরেকটি ঘটনায় গভর্নর আরও কড়া হয়েছেন। উত্তর দিনাজপুরের গোলপোকর-২ ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের অফিসে (চাকুলিয়া ) ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা অফিসে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, নথি ছড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনায় গভর্নর বলেন, “আমি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে পুরোপুরি নিশ্চিত যে, বাংলায় দুটো ক্যান্সার রয়েছে হিংসা এবং দুর্নীতি। সব পক্ষের সঙ্গে মিলে একটা অভিযান চালাতে হবে যাতে আমরা একটা দুর্নীতিমুক্ত ও হিংসামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ পাই।”










