বাংলায় এসেই লগ্নি যুদ্ধে মমতাকে হারালেন মোহন

কলকাতা: বাংলার শিল্প মানচিত্রে যখন লগ্নির টানাপোড়েন, (investment)ঠিক সেই সময়ই পশ্চিমবঙ্গ থেকেই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ টেনে নিয়ে গেল ওড়িশা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কলকাতায় আয়োজিত…

investment-battle-bengal-odisha-mohan-majhi

কলকাতা: বাংলার শিল্প মানচিত্রে যখন লগ্নির টানাপোড়েন, (investment)ঠিক সেই সময়ই পশ্চিমবঙ্গ থেকেই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ টেনে নিয়ে গেল ওড়িশা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কলকাতায় আয়োজিত এক দিনের শিল্প রোড-শো থেকেই প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার লগ্নি প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিল পড়শি রাজ্য। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে শিল্প আকর্ষণে বাংলার কৌশল কি পিছিয়ে পড়ছে?

Advertisements

রাজ্যের শিল্পমহলকে লগ্নির ডাক দিতে কোনও খামতি রাখেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন থেকে শুরু করে একাধিক শিল্প বৈঠক, রোড-শো সবই হয়েছে। তবুও বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা।

   

‘আতঙ্ক ছড়ানোর রাজনীতি বন্ধ করুন’, দাবি কংগ্রেস নেতার

যেখানে এক দিনের শিল্প সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে মোটামুটি ৪৩-৪৪ হাজার কোটি টাকার লগ্নি প্রস্তাব, সেখানে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি কলকাতায় এসে এক দিনের রোড-শো করেই প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের আশ্বাস আদায় করে নিলেন।

শনিবার কলকাতায় এই রোড-শোর আয়োজন করেছিল দেশের প্রথম সারির শিল্প সংগঠন সিআইআই (CII)। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০০ জন শিল্প প্রতিনিধি। ওড়িশা সরকারের দাবি অনুযায়ী, বাংলার মোট ২৭টি সংস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি চুক্তির অঙ্ক প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি আরও ১৯টি শিল্প প্রকল্পে প্রায় ১৮,৫০০ কোটি টাকার লগ্নি প্রস্তাব এসেছে।

মোহন চরণ মাঝির বক্তব্য, “২০৩৬ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ওড়িশা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। শিল্প, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই বিনিয়োগের ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৯১,৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

পরোক্ষভাবে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। লগ্নির ক্ষেত্রগুলিও যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। ইস্পাত শিল্পে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ২২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি খনিজ, পরিবেশবান্ধব শক্তি, পর্যটন, বস্ত্র, গাড়ির যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পেও বড় অঙ্কের লগ্নির চুক্তি হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত মাসেই হায়দরাবাদে আয়োজিত একটি রোড-শো থেকে ওড়িশা ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছিল। কলকাতার পর মোহন চরণ মাঝির পরবর্তী গন্তব্য দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরু। অর্থাৎ শিল্প টানার ক্ষেত্রে জাতীয় স্তরে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক কৌশল নিচ্ছে ওড়িশা সরকার।

কলকাতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক শিল্পকর্তার মন্তব্য, “শিল্পে লগ্নি টানতে ওড়িশা যে পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর এই মডেল থেকে শেখা উচিত।” তাঁর মতে, যেসব সংস্থা বাংলায় নতুন করে বিনিয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত, তারাই এখন ওড়িশার দিকে ঝুঁকছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অবিলম্বে শিক্ষা না নিলে অচিরেই শিল্প ও কর্মসংস্থানের নিরিখে বাংলাকে ছাপিয়ে যেতে পারে পড়শি রাজ্য ওড়িশা। প্রশ্ন উঠছে শুধু সম্মেলন নয়, বাস্তব জমি, নীতি-স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত অনুমোদনের দিকেই কি এবার বেশি নজর দেওয়া উচিত নয়?

Advertisements