কলকাতা: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক গড়তে চলেছে মালদহ। শনিবার মালদহ সফরে এসে দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi Malda Visit)। পাশাপাশি তিনি আরও ছয়টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনেরও সূচনা করবেন। সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে শনিবার মালদহে জোড়া কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন তিনি।
রেল ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বায়ুসেনার বিশেষ হেলিকপ্টারে মালদহের ইংরেজবাজারে পৌঁছবেন। ঝলঝলিয়া লক্ষণ সেন স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টারে অবতরণ করার পর সেখান থেকে তিনি সরাসরি যাবেন মালদহ টাউন স্টেশনে। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের পতাকা নেড়ে যাত্রা শুরু করাবেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ট্রেনের বিভিন্ন কোচ ঘুরে দেখবেন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে রেল আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেবেন। জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচির মধ্যেই তিনি কয়েকজন স্কুল পড়ুয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবেন।
নতুন স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস মূলত দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এই ট্রেনে থাকছে আধুনিক বার্থ ব্যবস্থা, উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় দরজা, আরামদায়ক শৌচাগার, জিপিএস ট্র্যাকিং, উন্নত গতির ইঞ্জিন এবং অত্যাধুনিক কোচ। রাতের যাত্রার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এই ট্রেন যাত্রীদের দেবে আরামদায়ক ও দ্রুত গতির সফরের অভিজ্ঞতা।
মালদহ টাউন স্টেশনে কর্মসূচি শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী আবার হেলিকপ্টারে সাহাপুর বাইপাস সংলগ্ন মাঠে যাবেন। সেখানে দুটি পৃথক মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে—একটি রেলের সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য এবং অন্যটি রাজনৈতিক সভার জন্য।
প্রথমে তিনি সরকারি রেল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছয়টি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করবেন। এই ট্রেনগুলি কম খরচে দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা দেবে সাধারণ যাত্রীদের। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক ও দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এরপর পাশের তৈরি দলীয় মঞ্চে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’-য় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সভাকে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যেই নারায়ণপুরে সাহাপুর বাইপাস সংলগ্ন বিস্তীর্ণ মাঠে বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মাসে নদিয়ার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা নির্ধারিত থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে তিনি সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। দমদম বিমানবন্দর থেকেই ফোনে ভাষণ দিতে হয়েছিল তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতার পর মালদহ সফর ঘিরে এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হলে দেশের দীর্ঘ দূরত্বের রেলযাত্রায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও আরামদায়ক পরিষেবার মাধ্যমে এই ট্রেন ভারতীয় রেলকে আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব করে তুলবে। মালদহ থেকে এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হওয়ায় উত্তরবঙ্গজুড়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


