দেশের সাংবিধানিক প্রশাসনের ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ২৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ভারতের সমস্ত রাজভবন (Raj Bhavan renamed) ও রাজনিবাস-এর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে রাখা হল ‘লোক ভবন’ ও ‘লোক নিবাস’। উপনিবেশিক যুগের রাজকীয় পরিভাষা ভেঙে নতুন নামের মাধ্যমে সরকার জানিয়ে দিল—এগুলি আর ক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং সাধারণ মানুষের ঘর।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই ঘোষণা প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে। বহু দশক ধরে রাজভবন ছিল ‘দূরবর্তী প্রশাসনের’ চিহ্ন—যেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশের কথা ভাবতেই পারত না। কিন্তু নতুন নামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং মানুষের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা।
পশ্চিমবঙ্গ এই পরিবর্তনের পথিকৃৎ। ২০২৩ সালেই কলকাতার রাজভবনের নাম সাময়িকভাবে রাখা হয়েছিল ‘জনা রাজ ভবন’, যাতে মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। সেই দিন থেকেই ভবনের দরজা খুলে দেওয়া হয় কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী, শিল্পী এবং বিপর্যস্ত পরিবারের জন্য।
২০২৩ সালের ২৭ মার্চ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রাজভবনের প্রতীকী চাবি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তখনকার গভর্নর ডঃ সি ভি আনন্দ বোসের উদ্যোগে রাজভবন মানুষের কাছে আরও উন্মুক্ত হয়, এবং ‘অপরিচিত দূরত্বের দুর্গ’ থেকে বদলে ওঠে মানুষের আশ্রয়স্থল।
গত তিন বছরে নানা পরিস্থিতিতে জনা রাজ ভবনের মানবিক ভূমিকা নজরে আসে। দক্ষিণবঙ্গের বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ঘূর্ণিঝড়—প্রতিটি সময়ই ভবনের বিশেষ টিম পৌঁছে গিয়েছে দুর্গত মানুষের পাশে। রাতে দরজায় কড়া নাড়লেই সাড়া মিলেছে ভিতর থেকে। অনেক পরিবার চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং নিরাপত্তার আশায় এসে রাজভবনের সাহায্য পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকসিত ভারত দর্শনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই সারা দেশের রাজভবনের নাম এক করে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ভারত থেকে উত্তর ভারত, পূর্ব থেকে পশ্চিম—প্রতিটি রাজ্যেই মানুষের ঘর হিসেবে পরিচিত হবে ‘Lok Bhavan’।
নতুন নামের সঙ্গে পুরনো প্রতিশ্রুতিও অটুট দরজা খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টা, অসুখ-বিপদে সাহায্য করবে বিশেষ টিম, এবং ভবনের প্রতিটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্যই অ্যাক্সেসযোগ্য হবে।
