কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজে বাধা সৃষ্টি করায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপর কলকাতা হাইকোর্ট কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে । শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) একটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই ইস্যু জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত এবং আর কোনো বিলম্ব সহ্য করা যাবে না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের অধ্যক্ষতায় গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে ৭ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছে—এর মধ্যে সীমান্তে বেড়া তৈরির অগ্রগতির স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই নির্দেশনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে, কারণ কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারকে এই বিলম্বের জন্য দায়ী করছে।
Google Pixel 10 কিনুন 14,000 টাকা ছাড়ে, ব্যাঙ্ক অফারে বিরাট সাশ্রয়ের সুযোগ
পিআইএলটি দায়ের করেছেন সাবেক আর্মি অফিসার এবং মানেকশ অ্যান্ড সেন্টার ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের নির্বাহী চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহা (রিটায়ার্ড)। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ২২১৭ কিলোমিটার লম্বা সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এখনও বেড়াহীন, যা অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, গবাদি পশু চোরাচালান এবং নকল মুদ্রার জন্য বড় হুমকি।
২০১৬ সাল থেকে এই সমস্যা চলছে, কিন্তু রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। শুনানিতে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী বলেছেন, “কেন্দ্র সীমান্তে বেড়া তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থও বরাদ্দ করেছে। কিন্তু রাজ্য সরকার একটিও পদক্ষেপ নেয়নি। এটা গুরুতর অবহেলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।” আদালতও এই কথায় একমত হয়ে বলেছে, “আগেও আমরা পজিটিভ রিপোর্ট চেয়েছিলাম।
এত সেনসিটিভ ইস্যুতে আর সময় দেওয়া যাবে না।”এই মামলার পটভূমি ১৩ নভেম্বরের শুনানি থেকে শুরু। তখন আদালত রাজ্যকে ১৫ দিনের মধ্যে অ্যাফিডেভিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু শুক্রবারের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীরা আবারও সময় চেয়েছিলেন। মামলাকারীর পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, রাজ্য একই অজুহাতে বারবার সময় নিচ্ছে। আদালত কড়া সুরে বলেছে, “এটা আন্তর্জাতিক সীমান্তের ব্যাপার, দেশের নিরাপত্তার সাথে জড়িত।
বেশি সময় দেওয়া যাবে না।” এখন ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট না জমা দিলে আদালত আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে, যেমন কনটেম্পট অফ কোর্টের মামলা। বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) এবং কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের উপর অসহযোগিতার অভিযোগ করে আসছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলো—মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি—এই বেড়াহীন অংশের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সাম্প্রতিককালে মুর্শিদাবাদে বোমা উদ্ধার এবং অনুপ্রবেশের ঘটনা এই সমস্যাকে আরও তীব্র করেছে।
