মুর্শিদাবাদ: প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নিজের দল ঘোষণা করলেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। নতুন দলের নাম রাখলেন জন উন্নয়ন পার্টি। নতুন পার্টির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে হুমায়ুন বলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আসলে আরএসএস ভক্ত। নাহলে মোহন ভগবৎ কি করে অনুমতি ছাড়া বাংলায় সভা করতে পারেন। তবে এখানেই থেমে থাকেননি হুমায়ুন।
তিনি আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে আরএসএসের সংগঠন বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরব সহযোগিতা। হুমায়ুন কবিরের দাবি, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরএসএসের কিছু সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোহন ভাগবত ১৫ দিন ধরে বাংলায় ছিলেন। আবার তিনি কীভাবে এলেন? একজন আরএসএস প্রধানের রাজ্যে আসতে হলে তো রাজ্য সরকারের অনুমতি লাগে।”
‘দিল্লি কাঁপবে, বাংলার মানুষ জয় দেখাবে’, তোপ মুখ্যমন্ত্রীর
এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলায় আরএসএসের শাখা সংখ্যা ভয়ঙ্করভাবে বেড়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, “এক সময় রাজ্যে আরএসএসের মাত্র ৫৫৮টি শাখা ছিল। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজারে পৌঁছেছে। এটা কীভাবে সম্ভব? প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া কি এত দ্রুত এই বৃদ্ধি হতে পারে?”
হুমায়ুন কবিরের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রকাশ্যে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখ বলে দাবি করে, অন্যদিকে দলেরই এক সাসপেন্ডেড বিধায়কের মুখে এমন অভিযোগ শাসক শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
এখানেই থেমে থাকেননি হুমায়ুন কবির মোহন ভগবতের সাম্প্রতিক বাংলায় দাঙ্গা প্রসঙ্গে বলেছেন “আমরা মোহন ভাগবতজিকে সম্মান করি। কিন্তু তিনি যে মূল্যায়ন করেছেন, বাংলায় দাঙ্গা হতে পারে বা অশান্তি ছড়াতে পারে সেটা আমরা মানি না। এখানে এমন কিছু ঘটতে দেওয়া হবে না।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আরএসএস প্রধানের মন্তব্যকে তিনি বাংলার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলাতে নারাজ।
আরএসএস এবং বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে তাদের কর্মীদের উপর রাজনৈতিক হামলা হয়। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই প্রেক্ষাপটে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিকমহলের একাংশ।
তাদের মতে, মোহন ভাগবতের মন্তব্য এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবিরের এই বিস্ফোরক বক্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদে এই বক্তব্যের প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। সব মিলিয়ে, আরএসএস প্রধানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের দিকে এগোতে পারে এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
