
কলকাতা: কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ সকাল থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়া (Humayun Kabir)। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার হুমায়ুন কবীর আজ ব্রিগেডে এসেছিলেন কোরান পাঠের মাঠ পরিদর্শনে।
কিন্তু তাঁকে দেখামাত্রই সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ কর্মী-সমর্থকরা ‘গো ব্যাক, গো ব্যাক’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। হুমায়ুন কবীর অবশ্য নির্বিকার। তিনি মাঠ ঘুরে দেখেন, কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন কে কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না।
পরিবারে সংলাপের অভাবই ‘লাভ জিহাদ’-এর মূল কারণ: মোহন ভাগবত
তাঁর সমাবেশ হবেই।হুমায়ুন কবীরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ব্রিগেডে কোরান পাঠের আসর করবেন তিনি। এই সভাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে হইচই পড়ে গিয়েছে। কারণ, ব্রিগেড তো তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ঐতিহ্যের মাঠ’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একের পর এক ঐতিহাসিক সমাবেশ হয়েছে এখানে। এবার সেই মাঠেই জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের সভা এটা তৃণমূলের কাছে যেন চ্যালেঞ্জের সমান।
তাই আজ সকালে যখন হুমায়ুন মাঠ পরিদর্শনে আসেন, তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। কেউ কেউ প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসেন, কেউ স্লোগান দেন। কিন্তু হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তারক্ষীরা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন কবীর বলেন, “কে কী বলছে, কে গো ব্যাক বলছে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। বাবরি মসজিদ হবে, সমাবেশও হবে এই কথা বলে যারা বাধা দিতে চায়, তাদের বলি, আমার সমাবেশ হবেই। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আজ মাঠ দেখতে এসেছি। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা পুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করব। আইন মেনেই সব করব।” হুমায়ুনের দাবি, তাঁর সভায় লক্ষাধিক মানুষ আসবেন, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। তিনি বলেন, “এটা কোনও দলের সভা নয়, এটা জনগণের সভা।
যারা রাজ্যে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান, তাঁরাই আসবেন।”হুমায়ুন কবীরের এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে তাঁর তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই তিনি দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠেন। অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদে দলের একাংশ তাঁকে অপমান করেছে, কাজ করতে দেয়নি। শেষমেশ তৃণমূল ছেড়ে স্বতন্ত্র বিধায়ক হয়ে যান।
তারপর থেকে তিনি একের পর এক সভা করে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ব্রিগেডের এই সভাকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের বড় মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। সূত্রের খবর, তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় কর্মীসভা করছেন, সমর্থকদের সংগঠিত করছেন। কেউ কেউ বলছেন, এই সভার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে নতুন দল গঠনের পথও প্রশস্ত করতে পারেন।










