
হাইকোর্টে গ্রাহ্য হল না তৃণমূল কংগ্রেসের (I-PAC) আনা নথিচুরির অভিযোগ। এই সংক্রান্ত মামলার নাকচ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে রাজ্যের শাসকদলের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর এবার নজর ঘুরছে সুপ্রিম কোর্টের দিকে, যেখানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র করা মামলার শুনানি রয়েছে আগামীকালই।
এদিন হাইকোর্টে শুনানির (I-PAC) সময় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়, ইডি বেআইনিভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সেগুলি ফেরত দেওয়া হয়নি। সেই নথিগুলি ছাড়া মামলার সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়। তবে আদালত সেই অভিযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নথিচুরির অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য বা প্রমাণ পেশ করতে পারেনি শাসকদল।
ইডি-র (I-PAC) তরফে আদালতে সাফ জানানো হয়, কোনও নথিই বেআইনিভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। ইডির আইনজীবীর বক্তব্য, “যাবতীয় নথি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিয়ে গিয়েছেন। কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি এবং নথিচুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” ইডির এই বক্তব্যের পরই আদালত জানায়, এই বিষয়ে আর কোনও শুনানির প্রয়োজন নেই এবং মামলার নিষ্পত্তি করে দেয়। অন্যদিকে, আদালতে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয় ইডির ভূমিকা নিয়ে। (I-PAC) শাসকদলের আইনজীবীরা দাবি করেন, ২০২২ সালেই এই মামলায় চার্জ গঠন হয়ে গিয়েছিল। এতদিন বিষয়টি নিয়ে বিশেষ কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। কিন্তু ভোটের মুখে এসে হঠাৎ করেই ইডি অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে বিরোধীদের চাপে রাখতে এবং রাজ্য সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতেই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আদালতে যদিও এই রাজনৈতিক অভিযোগের বিষয়টি সরাসরি বিচার্য নয় বলে জানানো হয়। হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, নথিচুরি সংক্রান্ত অভিযোগে কোনও আইনি ভিত্তি না থাকায় সেই মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। এই মামলার নিষ্পত্তির পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। শাসকদলের একাংশ মনে করছে, হাইকোর্টে এই ধাক্কা খেলেও সুপ্রিম কোর্টে তারা নিজেদের বক্তব্য আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, আদালতের এই রায় প্রমাণ করে দিয়েছে যে তৃণমূলের অভিযোগ আদতে রাজনৈতিক নাটক ছাড়া কিছুই নয়।
এদিকে ইডি-র করা মামলার শুনানি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা। সুপ্রিম কোর্টে আগামীকাল এই মামলার শুনানি রয়েছে। সেখানে কী পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহল। হাইকোর্টে নথিচুরি অভিযোগ খারিজ হওয়ায় ইডির অবস্থান যে কিছুটা শক্ত হল, তা মানছেন আইনজ্ঞদের একাংশ।










