CBI চার্জশিট জমার নির্দেশে স্থগিতাদেশ, হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন মহুয়া

সাময়িকভাবে ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন করার অভিযোগে চলা মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট লোকপালের দেওয়া একটি…

High Court Cancels Lokpal Order, Offers Relief to Mahua Moitra

সাময়িকভাবে ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন করার অভিযোগে চলা মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট লোকপালের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করে তা খারিজ করে দেয়। এর ফলে আপাতত মহুয়ার বিরুদ্ধে চলা মামলায় সিবিআই চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিরতি পড়ল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements

এই মামলার রায়দান হয় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথ শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, লোকপাল যে নির্দেশে সিবিআই-কে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, তা আইনগতভাবে সঠিক ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়নি। আদালতের এই পর্যবেক্ষণেই আপাত স্বস্তি মিলেছে তৃণমূল সাংসদের।

   

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই লোকপাল আদালত সিবিআই-কে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দেয়। লোকপালের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। তাঁর তরফে আইনজীবী নিধেশ গুপ্ত আদালতে আবেদন জানান যে, লোকপাল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নির্দেশ দিয়েছে এবং নির্দেশটি আইনসঙ্গত নয়।

শুক্রবার আদালতে রায় দিতে গিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, লোকপাল আদালতের নির্দেশে আইনি ত্রুটি রয়েছে এবং বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। আদালতের মতে, লোকপাল যে প্রেক্ষাপটে সিবিআইকে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, সেখানে প্রাসঙ্গিক আইন ও প্রক্রিয়ার সঠিক প্রয়োগ হয়নি। সেই কারণেই ওই নির্দেশ বাতিল করা হচ্ছে।

আদালতের এই রায়ে মহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে চার্জশিট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা খেল সিবিআই। আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে তদন্তকারী সংস্থাকে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া মেনে এগোতে হতে পারে। একই সঙ্গে লোকপালের ক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠল বলে মনে করা হচ্ছে।

মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী নিধেশ গুপ্ত আদালতে যুক্তি দেন, লোকপাল আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে তা আগের একটি আদালতের পর্যবেক্ষণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েই রায় দেয়। আদালতের মন্তব্য, “ভুল বোঝাবুঝির ভিত্তিতে কোনও তদন্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না।”

এই মামলাটি রাজনৈতিক মহলে শুরু থেকেই যথেষ্ট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। শাসক দল বিজেপির তরফে মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলেও, তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই দাবি করে এসেছে যে এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাইকোর্টের এই রায়কে তৃণমূল নেতৃত্ব স্বাগত জানিয়েছে এবং একে ‘ন্যায়বিচারের জয়’ বলে অভিহিত করেছে।

 

Advertisements