কলকাতা: নতুন সপ্তাহের শুরুতেই সোনা ও রুপোর (Gold silver price) বাজারে বড়সড় ধস নামল। দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী থাকা এই দুই মূল্যবান ধাতুর দামে হঠাৎ পতনে কার্যত চমকে গিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রুপোর দামে। এক লাফে প্রায় ২১ হাজার টাকা কমেছে রুপোর দর। একই সঙ্গে চাপের মুখে পড়েছে সোনার দামও, যা কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় সোনা-রুপোকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বহু মানুষ। সেই কারণেই দাম দ্রুতগতিতে বাড়ছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, অতিরিক্ত উত্থান শেষ পর্যন্ত সংশোধনের দিকেই যায়। অবশেষে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল।
MCX-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মধ্যরাতের আগেই দাম পড়তে শুরু করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তখন প্রতি আউন্স সোনার দর পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ৪,৫৪০ ডলার পর্যন্ত। একই সময়ে দেশের বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ৪ শতাংশ দরপতনের জেরে MCX গোল্ডে বড় ধস নামে। সোনার দাম নেমে আসে প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার আশেপাশে।
রুপোর ক্ষেত্রে পতন আরও তীব্র। গত এক বছরে প্রায় ১৪০ শতাংশ রিটার্ন দেওয়ার পর রুপোর দাম সোমবার রাতে এক ধাক্কায় প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। অর্থমূল্যে যা প্রায় ২১ হাজার টাকা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের সেশনে MCX-এ রুপোর দাম উঠেছিল প্রায় ২ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপো ছুঁয়েছিল ৮০ ডলারের গণ্ডি। সেখান থেকেই হুড়মুড়িয়ে নামতে শুরু করে দর।
শুধু সোনা-রুপো নয়, প্লাটিনামের দামেও বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। এক ধাক্কায় প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে প্লাটিনামের দর। ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দরপতনের মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ফ্লোরিডায় তাঁদের মধ্যে চলা শান্তি আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। প্রায় ২০ দফা আলোচনার ৯০ শতাংশ বিষয়েই সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই খবরে বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তা কমার ইঙ্গিত মিলতেই বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ থেকে টাকা তুলে নেওয়া শুরু করেন। ব্যাপক প্রফিট বুকিং শুরু হয় সোনা ও রুপোর বাজারে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়ে দামে। চাহিদা কমতেই দর দ্রুত নিম্নমুখী হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সংশোধনের প্রভাব খুব শিগগিরই ফিজিক্যাল সোনা ও রুপোর বাজারেও দেখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের অনেকেই মনে করছেন, এই দরপতন নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ এনে দিতে পারে। কারণ মৌলিক দিক থেকে সোনা এখনও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত।
