বিয়ের মরশুমের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি। বিয়ের আয়োজন মানেই গয়না কেনার তোড়জোড়, আর ঠিক সেই সময়েই কলকাতার সোনার বাজারে রেকর্ড দামে পৌঁছেছে হলুদ ধাতু। শুক্রবার জিএসটি-সহ ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ১০ গ্রামে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, যা কার্যত ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। একই সঙ্গে ২২ ক্যারাট সোনার দামও বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৫১০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি বিয়ের প্রস্তুতিতে থাকা সাধারণ মানুষের মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
গত তিন বছরে সোনার দামে যে হারে উত্থান হয়েছে, তা অভূতপূর্ব বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। হিসেব বলছে, এই সময়ের মধ্যে সোনার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল অনেকটাই নাগালের মধ্যে, এখন সেখানে সেই পরিমাণ সোনা কেনা মধ্যবিত্তের কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। ফলত সাধ আর সাধ্যের মধ্যে ব্যবধান ক্রমশ চওড়া হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে বিয়ের মরশুমে এই দামবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে। বাঙালি বিয়েতে সোনার গয়নার গুরুত্ব আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কনে হোক বা বর সোনার হার, চুড়ি, আংটি ছাড়া বিয়ের আয়োজন যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে সেই গয়না কেনার পরিকল্পনাই অনেক পরিবারকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। অনেকেই গয়নার ওজন কমাচ্ছেন, কেউ কেউ আবার সোনার বদলে হালকা গয়না বা অন্য বিকল্পের কথা ভাবছেন।
সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, ডলার-রুপির ওঠানামা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝোঁক সব মিলিয়ে সোনার চাহিদা বেড়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই মানুষ সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ফলে চাহিদা বাড়ছে, বাড়ছে দামও।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি। সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলানোর পর বিয়ের মতো বড় অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা করে এত টাকা জোগাড় করা সহজ নয়। অনেক পরিবারকেই ঋণ বা সঞ্চয়ের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বিয়ের আয়োজন ছোট করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যাতে খরচ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
