কলকাতা: শীতের হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে ফুলচাষের ওপর প্রভাব পড়েছে। সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) আগে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ফুলবাজারে গাঁদা, চেরি, রজনীগন্ধা সহ বিভিন্ন ফুলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। এবছর সরস্বতী পুজো এবং নেতাজির জন্মদিন একই দিনে পড়ায় বাজারে চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
ফুলচাষি ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শীতের তাপমাত্রার হেরফেরের কারণে ফুল উৎপাদন কমে গেছে। যদিও কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ হয়নি, তবুও ফুলের প্রাপ্যতা কিছুটা সীমিত হয়েছে। কোলাঘাট থেকে হাওড়ার মল্লিকঘাট পর্যন্ত গাঁদা ফুল সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে দামও ত্বরান্বিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত কমলা গাঁদার দাম প্রতি কেজি ১৫-২০ টাকা থাকে, কিন্তু বর্তমানে লাল গাঁদার দাম পৌঁছেছে ৫০-৬০ টাকায়। সরস্বতী পুজোতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে হলুদ গাঁদার; এর দাম এখন প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা।
চেরি ফুলের বাজারেও হঠাৎ চাপ বেড়েছে। সাধারণত ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া চেরি ফুল এখন ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রজনীগন্ধারও দাম বেড়েছে; যেখানে আগে প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। পাইকারি বাজারের এই বৃদ্ধি খুচরো বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সরস্বতী পুজো এবং নেতাজির জন্মদিন একসাথে হওয়ায় গাঁদা ফুলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিয়ের মরশুমও শুরু হওয়ায় গোলাপ, রজনীগন্ধা, চেরি ও গাঁদার দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তবে বাজারে ফুলের সরবরাহ ভালো থাকায় চরম মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কম।
সারা বাংলা ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়েক বলেছেন, “গাঁদা ফুলের চাহিদা এই সময়ে বেশি থাকে, তাই দাম কিছুটা বেড়ে যায়। তবে এবার সরবরাহ ঠিক থাকায় দাম অতিরিক্ত বাড়বে না।” খুচরো বিক্রেতারা মনে করছেন, পুজোর দিনে দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে ক্রেতাদের ফুল কেনার খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে।
ফুলপ্রেমীদের জন্য পরামর্শ, সরস্বতী পুজোর আগে বাজারে ফুল কিনলে তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যাবে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ঠিক থাকায় পুজোর দিনে ফুলের ঘাটতি হবে না, তবে দাম সাময়িকভাবে বেশি থাকবে।
