
দেশের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা (Fake Medicine) নিয়ে ফের বড় ধাক্কা। CDSCO (Central Drugs Standard Control Organization)-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে যে ২০৭টি ওষুধ, যেগুলি ১৫০টিরও বেশি সংস্থার তৈরি, তাদের গুণগত মান পরীক্ষা ফেল করেছে। এই বিপদজনক পরিস্থিতি দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে একাধিক ওষুধের উপর সন্দেহ তৈরি করেছে এবং সেগুলির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন, যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যবহৃত হয়, সেগুলিতেও সমস্যা ধরা পড়েছে। একাধিক কোম্পানির তৈরি Ceftriaxone (সেফট্রিয়াক্সন) এবং Amoxicillin (এমোক্সিসিলিন) ইঞ্জেকশনের স্টেরিলিটি টেস্টে ব্যর্থ হয়েছে। (Fake Medicine) এই ইঞ্জেকশনগুলো ব্যাকটেরিয়া মুক্ত থাকার কথা, কিন্তু পরীক্ষায় এদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া ভাসতে দেখা গেছে। এর মানে হল যে, এই ওষুধগুলো ব্যবহার করলে রোগীরা একদিকে যেমন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন, তেমনই এর ব্যবহারে মৃত্যুও ঘটতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত Colistimethate Sodium (কোলিস্টিমিথেট সোডিয়াম) ইঞ্জেকশনও একইভাবে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এই ধরনের ওষুধ সাধারণত গুরুতর সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু যখন এই ওষুধের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তখন এটি রোগীর(Fake Medicine) জন্য অত্যন্ত বিপদজনক হতে পারে। বিশেষত, যারা গুরুতর সংক্রমণে ভুগছেন, তাদের জন্য এসব ওষুধ আরও বিপদ বাড়াতে পারে।
অপারেশনের আগে রোগীকে অবশ করার জন্য ব্যবহৃত Bupivacaine (বিউপিভ্যাসাইন) ইঞ্জেকশনেও গুরুতর সমস্যা ধরা পড়েছে। এই ইনজেকশনের ভায়ালে ক্ষতিকারক পদার্থ পাওয়া গেছে, যা রোগীর শরীরে প্রবাহিত হতে পারে এবং তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে। একইভাবে, খিঁচুনি কমাতে ব্যবহৃত কিছু ইনজেকশনের ভায়ালে কঠিন পদার্থ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা এই ইনজেকশনের কার্যকারিতা হ্রাস করে এবং রোগীকে আরও ক্ষতি করতে পারে।
শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালস (Fake Medicine) এবং রিলিফ বায়োটেক—এই দুই সংস্থা শিশুদের জন্য তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপ এবং কাফ সিরাপ উৎপাদন করেছিল, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে। এই সিরাপগুলো খেয়ে বহু শিশু মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে বাজার থেকে সরিয়ে নেয়। সম্প্রতি, চেন্নাইয়ের একটি সংস্থা তৈরি শিশুদের প্যারাসিটামল সিরাপে দূষিত পদার্থ পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি বড় বিপদের দিকে ইঙ্গিত করছে।
এছাড়া, অন্যান্য বেশ কয়েকটি ওষুধও গুণগত মান পরীক্ষা ফেল করেছে। CDSCO-র রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বাজারে থাকা Cefixime (সেফিক্সিম) অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের মধ্যে মাত্র ২০.৫৪% সঠিক ওষুধ পাওয়া গেছে, বাকি ৭৯.৪৬% সম্ভবত অকার্যকর পদার্থ। এই ধরনের নিম্নমানের ওষুধের ব্যবহার রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে এবং এটি মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।






