
জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এল SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকা। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য জুড়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—কার নাম থাকছে আর কার নাম বাদ যাচ্ছে। (SIR) সেই সমস্ত সংশয়ের অনেকটাই এবার দূর হতে চলেছে এই খসড়া ভোটার তালিকার মাধ্যমে।
মঙ্গলবার সকালেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দপ্তর থেকে প্রকাশ করা হয়েছে নাম বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা। সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই জানতে পারেন তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে কি না, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট চালু করেছে নির্বাচন কমিশন।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলি জানতে হলে লগইন করতে হবে—
ceowestbengal.wb.gov.in/asd_sir
এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে সংশ্লিষ্ট তালিকা।
এছাড়াও, খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, সেই পূর্ণ তালিকাও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা দেখতে হলে কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে অথবা সরাসরি এই লিঙ্কে ক্লিক করা যেতে পারে—
[https://www.eci.gov.in/এবং
[https://ceowestbengal.wb.gov.in
রাজ্যের CEO দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে মোট ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এবং বিশেষ রোল অবজ়ার্ভার দু’পক্ষই স্পষ্ট জানিয়েছেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
রাজ্যে নিযুক্ত বিশেষ রোল অবজ়ার্ভার ও প্রাক্তন আমলা সুব্রত গুপ্ত জানান, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই যে চূড়ান্তভাবে ভোটাধিকার হারাতে হবে, এমনটা নয়। তিনি বলেন, “এই ৫৮ লক্ষের নাম আপাতত খসড়া তালিকায় থাকছে না। তবে এর পিছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।” CEO দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে বেশিরভাগই এমন ভোটার, যাঁরা—
ইতিমধ্যেই প্রয়াত
রাজ্যের বাইরে বা অন্যত্র চলে গেছেন
নিখোঁজ
একাধিক জায়গায় নাম নথিভুক্ত
অথবা এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেননি
এই কারণগুলির জন্যই মূলত এত সংখ্যক নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সুব্রত গুপ্ত জানান, প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার এমন রয়েছেন, যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগসূত্র খুঁজে পাননি। এই ভোটারদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। তাঁদের প্রত্যেককে **হিয়ারিং বা শুনানির জন্য ডাকা হবে। সেই শুনানিতে তাঁরা প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য পেশ করার সুযোগ পাবেন। শুনানির পরেই স্থির হবে তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কি না।










