কলকাতা: কলকাতায় বড় ধরনের ব্যাঙ্ক ফ্রড মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED raid)-র কড়া অভিযান চলছে। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ কলকাতার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী প্রত্যুষ কুমার সুরেকাকে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA), ২০০২-এর অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই গ্রেফতার শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউস (ইন্ডিয়া) লিমিটেড-এর সঙ্গে যুক্ত একটি বিশাল ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত, যাতে ২৫টি ব্যাঙ্কের কনসোর্টিয়ামকে প্রায় ২,৬৭২ কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।
অনূর্ধ্ব ১৮-এর পর অনূর্ধ্ব ১৪ ডার্বিতেও দাপট লাল-হলুদের
ইডি-র কলকাতা জোনাল অফিসের তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই কোম্পানির প্রমোটার-ডিরেক্টররা (নীলেশ পারেখ, উমেশ পারেখ, কমলেশ পারেখ প্রমুখ) ২০১০-১১ সালে ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোন এবং এক্সপোর্ট বিল ডিসকাউন্টিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ অপব্যবহার করেছেন। প্রায় ১৬০ কোটি টাকা সোলার পাওয়ার প্রোজেক্টে ডাইভার্ট করা হয়েছে।
পরে এই প্রোজেক্টগুলোকে কোম্পানির প্রাক্তন ডিরেক্টর ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে ‘বিক্রি’ দেখিয়ে প্রকৃত মালিকানা লুকানো হয়েছে। এই সমস্ত লেনদেন রিলেটেড পার্টি ট্রানজেকশনের মাধ্যমে করা হয়েছে, যাতে প্রোজেক্টের আসল মূল্য ও অর্থের গতিবিধি গোপন রাখা যায়। এছাড়া কোম্পানি বিদেশে (দুবাই, সিঙ্গাপুর, হংকং) ডামি ও শেল কোম্পানি খুলে জুয়েলারি এক্সপোর্ট দেখিয়ে অর্থ পার্ক করেছে, যা ব্যাঙ্কে ফেরত আসেনি।
প্রত্যুষ কুমার সুরেকা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিযুক্ত। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি এই ফ্রডের অর্থ লন্ডারিংয়ে জড়িত ছিলেন। গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬-এ কলকাতা বিমানবন্দরে থাইল্যান্ড যাওয়ার চেষ্টাকালে লুকআউট সার্কুলার (LOC) জারি থাকায় তাঁকে আটক করা হয়। পরে ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। ইডি-র দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে ইডি এই মামলায় কোম্পানির সম্পত্তি আটক করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, শিলিগুড়ি, মুম্বাই, হায়দরাবাদ, পুনে-সহ বিভিন্ন জায়গার ফ্যাক্টরি, অফিস, শোরুম ও রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাট।এই মামলার শুরু হয়েছে সিবিআই-এর ব্যাঙ্ক ফ্রড অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সিকিউরিটিজ উইংয়ের এফআইআর থেকে। ২০১৬ সাল থেকে এই কেস চলছে।
কোম্পানির প্রমোটাররা ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে এক্সপোর্ট বিল ডিসকাউন্ট করে অর্থ তুলে নিয়েছেন, কিন্তু রিপেমেন্ট করেননি। এছাড়া এক্সপোর্ট প্রসিডস রিয়ালাইজ না করে বিদেশে অর্থ পার্ক করা হয়েছে। ইডি এর আগে ২০২০ সালে FEMA-র অধীনে ৭,২২০ কোটি টাকার সর্বোচ্চ শো-কজ নোটিস জারি করেছিল। সম্প্রতি ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিন রাজ্যে (পশ্চিমবঙ্গ, তেলঙ্গানা, গুজরাত) ১৩টি লোকেশনে রেইড চালানো হয়।
এই গ্রেফতার ইডি-র ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ। ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বড় ফ্রডের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান চলছে। প্রত্যুষ সুরেকা-র গ্রেফতারের পর তাঁকে কোর্টে তোলা হয়েছে এবং কাস্টডি পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে, আরও গ্রেফতার হতে পারে।
