
আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থার কলকাতা দফতরে তল্লাশি অভিযান ঘিরে এবার আইনি লড়াইয়ে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)(ED on IPAC Raids) । তল্লাশিতে বাধাদান এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে তারা আদালতে আবেদন জানায়, যা শুনে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাস থেকে সেই অনুমতিও মঞ্জুর করা হয়েছে।
ইডি-র ED on IPAC Raids অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং সংস্থার দফতরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। এই অভিযান সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী করা হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। কিন্তু সেই সময়ে ইডি আধিকারিকদের কাজে বেআইনিভাবে বাধা দেওয়া হয় এবং তদন্তের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ইডির অভিযোগ, ‘সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন।
ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই নথিগুলি তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হলে মামলার বহু দিক স্পষ্ট হতে পারত। কিন্তু আচমকাই ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। এই ঘটনাকে তারা গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করেছে এবং সেই কারণেই আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছে সংস্থাটি। ইডি আরও দাবি করেছে, সাংবিধানিক পদে থাকা কারও কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। আইন সবার জন্য সমান—এই নীতির ভিত্তিতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, তদন্ত চলাকালীন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বলপ্রয়োগ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, তা সে যে-ই করুক না কেন।
কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়েরের অনুমতি মেলায় এই ইস্যু এখন সম্পূর্ণভাবে আইনি লড়াইয়ের পথে এগোচ্ছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার ভবিষ্যৎ শুনানি রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এই মামলার রায় একদিকে যেমন তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতা ও সীমা নির্ধারণ করবে, তেমনই অন্যদিকে সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।










