
কলকাতা: কলকাতা থেকে দিল্লি রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ চড়ছে। (ED)গত ৮ জানুয়ারি ইডি আইপ্যাক এর অফিস এবং তার কো-ফাউন্ডার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এই তল্লাশি কয়লা পাচারের মানি লন্ডারিং মামলার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ইডির অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা এবং টিএমসি নেতারা এসে তদন্তে বাধা দেন, নথি-ডিভাইস ছিনিয়ে নেন।
এমনকি ইডি অফিসারদের ফোনও ‘চুরি’ হয়েছে বলে দাবি।আজ, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্টে এই নিয়ে জোরালো শুনানি হয়েছে। ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, এটা ‘জঙ্গল রাজ’-এর উদাহরণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এসে তদন্তকারীদের ভয় দেখিয়েছেন, নথি নিয়ে গেছেন। ইডি চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিজিপি রাজীব কুমারসহ অন্যান্য পুলিশ কর্তাদের অপসারণ।
১৮ বছরের ধ্বংসস্তূপ থেকে নমোর হাতে বাংলায় সূর্যোদয় দেখছে বিজেপি
এছাড়া রাজ্য পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে নোটিশ দিয়েছে, এফআইআর-গুলো স্থগিত রেখেছে এবং তল্লাশির সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কপিল সিব্বল বলেন, এই তল্লাশি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
আইপ্যাক টিএমসি-র নির্বাচনী কৌশলের সঙ্গে যুক্ত, তাই গোপন তথ্য হাতানোর চেষ্টা। তিনি বলেন, কোনও বড় জিনিস উদ্ধার হয়নি, সিজার লিস্ট ও কিছু নেই। কলকাতা হাইকোর্টেও এ নিয়ে শুনানি চলছে, সেখানে ইডি জানিয়েছে কোনও জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন এটাও যে ইডির তদন্ত কতটা সফল হবে ? সরকারি তথ্য বলছে, PMLA মামলায় ইডির ‘মেরিট’-এ সাফল্যের হার অসাধারণ।
২০১৪ থেকে ২০২৫-এর নভেম্বর পর্যন্ত বিশেষ PMLA আদালতে ৫৬টি মামলার রায় হয়েছে, তার মধ্যে ৫৩টিতে সাজা অর্থাৎ ৯৪.৬৪%। ২০২০-২০২৫-এর মধ্যে ৪১টি মামলার মধ্যে ৩৮টিতে দোষী সাব্যস্ত, ৯২%+। ইডি দাবি করে, এতে তারা ৩৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি ফেরত দিয়েছে ভুক্তভোগীদের।কিন্তু পুরো ছবিটা অন্যরকম। মোট দায়ের হওয়া মামলা (ECIR) ৬,০০০-এরও বেশি, কিন্তু সাজা হয়েছে মাত্র ১২০ জনের।
সামগ্রিক সাফল্যের হার মাত্র ১-২%। কারণ? বেশিরভাগ মামলা এখনও বিচারাধীন। প্রধান অপরাধের তদন্তে দেরি হলে PMLA-ও আটকে থাকে। সুপ্রিম কোর্টও একাধিকবার বলেছে বছরের পর বছর জেলে রাখা হয়, কিন্তু সাজা কম।এই পরিসংখ্যান দেখে অনেকে বলছেন, ইডির তদন্ত ‘প্রক্রিয়া’ হিসেবে শাস্তি দেয়, ফলাফল কম। আবার কেউ কেউ বলছেন, যে মামলাগুলো শেষ হয়, সেগুলোতে প্রায় সবসময় জয়। আইপ্যাক কেস যদি সেই ‘মেরিট’ ক্যাটাগরিতে পড়ে, তাহলে বিপদ বাড়তে পারে।










