
কলকাতা: আইপ্যাক মামলায় শুনানি মুলতুবি করার জন্য আবেদন করল ইডি (ED)। তিনদিনের সময় চাইলেন ইডি আধিকারিকেরা। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইডি একই মামলা সুপ্রিম কোর্টেও দায়ের করেছে। এতে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির এই মুলতুবির আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।এই মামলার পটভূমি গত ৮ জানুয়ারি থেকে। প্রশ্ন উঠেছে যে ইডি দ্রুত শুনানি চাইছিল এবং তারা সুপ্রিম কোর্টে চলে গিয়েছিল হঠাৎ কেন তারা সময় চাইছে।
এসে গেছে BM-04 মিসাইল! চালাবে ধ্বংসযজ্ঞ, ভেঙে ফেলবে শত্রুর বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইডি আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এই তল্লাশি ২০২০ সালের কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে যুক্ত মানি লন্ডারিং তদন্তের অংশ। তল্লাশির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।
তিনি অভিযোগ করেন, ইডি তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের সংবেদনশীল ডেটা চুরি করার চেষ্টা করছে। ইডির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের সাহায্যে তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে চলে গেছেন।
এই ঘটনার পর ইডি হাইকোর্টে মামলা করে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি জানান এবং অভিযোগ করেন যে, রাজ্য পুলিশ ইডি আধিকারিকদের আটকে রেখেছে, ডিভাইস চুরি করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ইডির বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করে। একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির মামলা, অপরটি ইডির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের।
তৃণমূলের দাবি, ইডি বিজেপির হয়ে কাজ করছে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের ডেটা লুট করার চেষ্টা করছে।হাইকোর্টে বর্তমানে চারটি মামলা চলছে। দু’টি ইডির দায়ের একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে, অপরটি ইডির বিরুদ্ধে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ইডির বিরুদ্ধে দু’টি মামলা।
গত ৯ জানুয়ারি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুনানির সময় এজলাসে তুমুল বিশৃঙ্খলা হয়। আইনজীবী ও ইন্টার্নদের ভিড়ে হট্টগোল, ধাক্কাধাক্কি। বিচারপতি বারবার শান্তির অনুরোধ করলেও কেউ শোনেনি। অবশেষে তিনি এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং মামলা ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করেন।
ইডি তখনই অ্যাকটিং চিফ জাস্টিসের কাছে দ্রুত শুনানির আবেদন করে, কিন্তু তা খারিজ হয়। পরে ইডি সুপ্রিম কোর্টে যায়, দু’টি পিটিশন দায়ের করে। রাজ্য সরকার আগেভাগে ক্যাভিয়েট দাখিল করে একতরফা আদেশ রুখেছে।এখন ইডির মুলতুবির আবেদন নিয়ে বিচারপতি ঘোষ স্পষ্ট করে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে একই প্রার্থনা করা হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এটা সময়ক্ষেপণের চেষ্টা।










