কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে আরও একটা বড় ধাক্কা (ED)। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র কলকাতা জোনাল অফিস প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ), ২০০২-এর অধীনে প্রায় ৫৭.৭৮ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে। এই সম্পত্তিগুলো তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহা, মূল মধ্যস্থতাকারী প্রসন্ন কুমার রায় এবং অন্যদের নামে রয়েছে।
সম্পত্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজারহাট, নিউ টাউন, পাথরঘাটা, গড়গড়ি এবং উত্তর ২৪ পরগনার আশপাশের এলাকায় অবস্থিত আবাসিক ফ্ল্যাট, ভিলা এবং জমির প্লট। এছাড়া মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান জেলা এবং কলকাতার হিডকো-উন্নয়িত এলাকায়ও রয়েছে কিছু সম্পত্তি।ইডি-র তদন্তে দেখা গেছে, জীবন কৃষ্ণ সাহা এই অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার নিয়োগ দুর্নীতিতে (ক্লাস নাইন থেকে টুয়েলভ) মূল অভিযুক্তদের একজন।
চাঁদে আপনার নাম পাঠান, নাসা দিচ্ছে বিনামূল্যে সুযোগ!
তিনি অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলা এবং সেই ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এই অর্থ দিয়ে সাহা এবং তার পরিবারের নামে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানে বেশ কিছু সম্পত্তি কেনা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩.০১ কোটি টাকার সম্পত্তি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রসন্ন কুমার রায়কে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তার সহযোগীদের সঙ্গে মিলে তিনি অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করেছেন চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে।এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে ইডি-র এই সাম্প্রতিক অ্যাকশনের পর স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯৮ কোটি টাকা।
এর আগে এসএসসি গ্রুপ সি অ্যান্ড ডি স্টাফ নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে ২৪৭.২ কোটি, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (ক্লাস নাইন-টুয়েলভ) কেলেঙ্কারিতে ২৩৮.৭৮ কোটি এবং প্রাইমারি টিচার নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ইডি-র হাতে এখন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি।
এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একজন বর্তমান বিধায়কের নাম জড়ানোয় বিরোধী দলগুলো সরব হয়েছে। বিজেপি-সহ অন্যান্য দল দাবি করছে, এটা তৃণমূলের ‘চাকরি বিক্রি’র সংস্কৃতির প্রমাণ। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে দলের নেতারা বলছেন, তদন্ত চলছে, সত্য বেরিয়ে আসবে।
