তৃণমূল প্রভাবিত আদালত! হাইকোর্টে ক্ষোভ ইডির

ed-anger-court-chaos-calcutta-high-court-ipac

কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টে বিশৃখলা (High Court)। এই ইস্যুতেই ক্ষোভ উগরে দিল ইডি। কলকাতা হাইকোর্টে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আই-প্যাক অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানি আজ ‘কমোশন’ বা বিশৃঙ্খলার কারণে মুলতবি হয়ে গেল। এই ঘটনা রাজ্যের বিচার ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কোর্টরুমে এতটাই অস্থিরতা তৈরি হয় যে, বিচারপতি শুভ্রা ঘোষকে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়।

ইডি মন্তব্য করেছে, যদি হাইকোর্ট নিজের কোর্টরুম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে রাজ্যে আইনের শাসন কীভাবে কায়েম করবে? ইডি পিএমএলএ আইনের অধীনে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। তার সঙ্গে বলেছে পরিকল্পনা করে শুনানি পিছন হয়েছে এবং এর পিছনে তৃণমূল প্রভাব খাটাচ্ছে। ইডি মন্তব্য করেছে কোর্ট কি এর গুরুত্ব বুঝতে পারছে, নাকি বিশৃঙ্খলা এখন ক্ষমতার ঢাল হয়ে উঠেছে?ঘটনার পটভূমি গত ৮ জানুয়ারি থেকে।

   

কয়লা পাচারের ২০ কোটি I-PAC-এর মাধ্যমে গোয়া নির্বাচনে? ‘হাওয়ালা ট্রেইল’ ফাঁস ইডি-র

ইডি কয়লা চুরির মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের তদন্তে আই-প্যাকের সল্টলেক অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে অভিযান চালায়। এই অভিযানের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে হাজির হন এবং কিছু ডকুমেন্টস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডি এটিকে তদন্তে বাধা এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা বলে অভিযোগ করে হাইকোর্টে আবেদন করে।

তারা সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীকে যুক্ত করা হয়েছে। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।আজকের শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে এই জোড়া মামলা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এজলাসে আইনজীবী, দলীয় প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং অন্যান্যদের অত্যধিক ভিড়ের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

বিচারপতি বারবার শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি শুনানি মুলতবি করে ১৪ জানুয়ারির তারিখ দেন। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “হাইকোর্টে এই ধরনের কমোশন দেখে মনে হচ্ছে রাজ্যে আইনের শাসন বলে কিছু নেই।

মুখ্যমন্ত্রী নিজে তদন্তে বাধা দিয়েছেন, আর কোর্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এটা লজ্জাজনক।”তৃণমূলের তরফে পাল্টা দাবি করা হচ্ছে যে, এটি কেন্দ্রের চাপের ফল। তৃণমূলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, “ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করছে। ভিড়ের কারণে মুলতবি হয়েছে, কিন্তু এতে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও দোষ নেই। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই বিশৃঙ্খলা কোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট বলেন, “হাইকোর্টের মতো জায়গায় যদি এমন হয়, তাহলে সাধারণ আদালতে কী অবস্থা? এটি আইনের শাসনের উপর প্রশ্ন চিহ্ন।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন