পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপির উত্থানের পিছনে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)অবদান আজও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দেন। ২০১০-এর দশক থেকে রাজ্যের রাজনীতিতে তিনি এক শক্তিশালী মুখ ছিলেন। দলের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, জনমত গঠন এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় নেতৃত্বের কারণে বিজেপি রাজ্যের রাজনীতিতে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলেছে। নতুন নেতৃত্বের আবির্ভাব এবং দলের কেন্দ্রীয় দিকনির্দেশনার পরিবর্তনের কারণে দিলীপের সরাসরি প্রভাব কমে গেছে। অনেক সময়ই শোনা গেছে, বৈঠকে তাঁকে চেয়ার পর্যন্ত দেওয়া হয়নি, যা একসময় তিনি নিজে আক্ষেপ করেছিলেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই বুধবার দুপুরে দিলীপ ঘোষকে দেখা গেল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের বৈঠকে। এই সভার পরেই বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তিনি দেখা করলেন। এই হঠাৎ সক্রিয়তার পেছনে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের মধ্যে এই ঘটনাকে নিয়ে নানা মন্তব্য উঠে এসেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার এই ঘটনার ব্যঙ্গপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “একটি দল মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। আইসিইউ-তে ঢুকে গিয়েছে। বিশেষ ডাক্তারের প্রয়োজন। তাই দিলীপকে আনা হচ্ছে।” মজুমদারের ব্যঙ্গের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে দিলীপ ঘোষকে সক্রিয় দেখানো হলেও বিজেপির রাজ্য দিকনির্দেশনার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, “কিন্তু তিনি কী করে পারবেন? তাঁর তো কোনও পোস্ট নেই। শমীক ভট্টাচার্যের হাতেও ঢাল নেই, তরোয়াল নেই। রাজ্যে বিজেপির কোনও সংগঠন নেই। তাই দিলীপের সক্রিয়তাও দলের কার্যকর নেতৃত্বের অভাব পূরণ করতে পারবে না।”
দিলীপ ঘোষের রাজনীতিতে দীর্ঘকালীন অবদান থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সময়ে তার রাজনৈতিক প্রভাব অনেকাংশে সীমিত। নতুন নেতা এবং দলীয় রণনীতি পরিবর্তনের কারণে তিনি কেন্দ্রীয় স্তরে বেশি সক্রিয় হলেও রাজ্যে তার সরাসরি প্রভাব কমে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিলীপ ঘোষের হঠাৎ সক্রিয়তা মূলত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী। দলের নতুন কৌশল, ভোটের পরিকল্পনা এবং রাজ্য পর্যায়ের নীতি প্রণয়নে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির বর্তমান পরিস্থিতি গুরুতর। নির্বাচনী পরিসরে দলের সংগঠন দুর্বল, নেতৃত্ব হীরার মতো কেন্দ্রীভূত নয়। এই কারণে দিলীপ ঘোষের দেখা এবং তার সক্রিয়তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কার্যকর নয় বরং এক প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
