নির্বাচনে দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তন, বাংলার রাজনীতিতে নয়া জোয়ার

একসময়ে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক কৌশলেই দল এগিয়ে গিয়েছে। বুথ স্তর থেকে জেলা— সর্বত্র বিজেপির সংগঠন মজবুত করার নেপথ্যে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, তিনি…

Dilip Ghosh’s Bengal Campaign: 16 Meetings Scheduled Between January 6 and 20

একসময়ে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক কৌশলেই দল এগিয়ে গিয়েছে। বুথ স্তর থেকে জেলা— সর্বত্র বিজেপির সংগঠন মজবুত করার নেপথ্যে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, তিনি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। রাজ্য বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন তাঁর নেতৃত্বেই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিজেপি তখন ধীরে ধীরে প্রধান বিরোধী শক্তিতে পরিণত হচ্ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দিলীপ ঘোষই যেন দলের অন্দরেই কিছুটা ‘ব্রাত্য’ হয়ে পড়েছিলেন।

Advertisements

রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বে পরিবর্তন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব, এবং দলীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব কমে যাওয়ার জল্পনা— সব মিলিয়ে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কম চর্চা হয়নি। একসময় যিনি দলের মুখ, যাঁর বক্তব্যেই উত্তাল হতো রাজনৈতিক ময়দান, তিনি অনেকটাই নীরব হয়ে পড়েছিলেন। এই নীরবতাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। কেউ বলছিলেন, নেতৃত্বের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণেই কি কোণঠাসা তিনি? আবার কেউ মনে করছিলেন, দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক অধ্যায় বুঝি শেষের পথে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই ধারণা অনেকটাই বদলাতে শুরু করেছে। একদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকে তাঁর সঙ্গে একেবারে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক করেন দিলীপ ঘোষ। এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কি আবার তাঁর উপর ভরসা রাখছে? দিলীপ ঘোষ কি ফের সক্রিয় ভূমিকায় ফিরতে চলেছেন? এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে শুরু করে পরদিনই।

   

অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গ বিজেপির নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেন দিলীপ ঘোষ। প্রাক্তন ও বর্তমান রাজ্য সভাপতির এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের অবসান কি তবে হতে চলেছে? বিজেপি কি এবার সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত?

এই আবহেই বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এবার দিলীপ ঘোষ খেলবেন মাঠজুড়ে।” দিলীপ ঘোষের দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শমীকের ব্যাখ্যা, এতদিন তিনি ঘরে বসে দলের রূপরেখা তৈরি করছিলেন। অর্থাৎ, নীরবতা মানেই নিষ্ক্রিয়তা নয়— বরং সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করার প্রস্তুতিপর্ব চলছিল আড়ালে।

শমীক ভট্টাচার্য আরও দাবি করেন, আসন্ন ভোটে বাংলা এক সঙ্ঘবদ্ধ বিজেপিকে দেখতে চলেছে। অভ্যন্তরীণ মতভেদ ভুলে দল এবার একসঙ্গে লড়াই করবে, আর সেই লড়াইয়ের অন্যতম মুখ হবেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের দখল এবং কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ— এই তিন অস্ত্রই বিজেপির কাছে বড় সম্পদ।

দিলীপ ঘোষ বরাবরই পরিচিত তাঁর মাটির কাছাকাছি রাজনীতির জন্য। ভাষা বিতর্কিত হলেও কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তিনি সিদ্ধহস্ত। বুথকর্মী থেকে জেলা নেতৃত্ব— সকলের সঙ্গেই তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল একসময়। বিজেপির একাংশ মনে করছে, সেই পুরনো দিলীপই ফের মাঠে নামলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে পারে।

 

Advertisements