‘দল আমাকে চাইলে আমি আছি’, বিস্ফোরক দিলীপ

বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ফের রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর…

Dilip Ghosh Promises Loyalty: “I’m Here Whenever Party Requires

বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ফের রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এক নতুন বার্তা দিয়ে সামনে এসেছেন। দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে উঠে এসেছে তার দলের প্রতি নিষ্ঠা, দায়বদ্ধতা এবং রাজ্য বিজেপির ভবিষ্যত নিয়ে তার দৃঢ় অবস্থান। একটি সাংবাদিক সম্মেলনে দিলীপ ঘোষ স্পষ্টভাবে বলেন, “পার্টির যখন আমাকে প্রয়োজন আমি আছি। দল বললে প্রার্থী হব। রাজ্য সভাপতির কথা অনুযায়ী চলব।”

Advertisements

দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য রাজ্য বিজেপি এবং তার সহকর্মীদের কাছে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য বিজেপি-র সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে পরিচিত দিলীপ ঘোষ একাধিক নির্বাচনী প্রচারে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে, বর্তমানে রাজ্যে বিজেপির পরিস্থিতি একটু জটিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে। “পার্টির যখন আমাকে প্রয়োজন আমি আছি,” এই বক্তব্যে দিলীপ ঘোষ তার দলের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, দলই তার কাছে প্রথম এবং শেষ অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আরও বলেছেন, “যদি দল আমাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়, আমি সেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।” এই কথা থেকেই পরিষ্কার যে, তিনি কোনো ভাবেই নিজের দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিহীন নন এবং যদি দলের প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি আবারও নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুত।

   

দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য রাজ্য বিজেপির রাজনীতির সমন্বয় এবং ঐক্যের দিকে ইঙ্গিত করছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে, এবং অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর তার সক্রিয়তা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, দিলীপ ঘোষের এই বার্তা দলের প্রতি তার সমর্থন এবং একযোগে কাজ করার ইচ্ছাকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে।

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “আমি রাজ্য সভাপতির কথা অনুযায়ী চলব।” এটি আরও একবার প্রমাণ করে যে তিনি দলীয় অঙ্গীকারে অবিচল এবং দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা মেনে কাজ করতে প্রস্তুত। রাজ্য সভাপতির কথা মেনে কাজ করার তার এই মনোভাব দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রাজ্য বিজেপি বর্তমানে সংগঠনগতভাবে কিছুটা দুর্বল। দিলীপ ঘোষ এই পরিস্থিতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং দলের ভিতরে পুনরায় প্রাণ ঢালার চেষ্টা করছেন। দলের নেতাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

রাজ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও, দিলীপ ঘোষের মতো নেতার উপস্থিতি বিজেপির শক্তিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করতে পারে। বিজেপি যাতে আরও সংগঠিত হয়ে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, তার জন্য দিলীপ ঘোষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজেপি-র রাজ্যে নেতৃত্বের সংকটের মধ্যেও দিলীপ ঘোষের সক্রিয়তা দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো পরিস্থিতিতে দলের প্রয়োজন হলেই তিনি সবার সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং নেতৃত্ব দেবেন। তার এই মনের দৃঢ়তা দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা আনবে, যারা গত কয়েক বছরে বিভক্তি এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।

এছাড়া, দিলীপ ঘোষের মন্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে, তিনি কখনোই দলের আদর্শ থেকে সরে আসেননি এবং নিজের দলকে রাজ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তার এই নীতিগত দৃঢ়তা বিজেপির প্রতি জনগণের আস্থাও বাড়াতে পারে।

 

Advertisements