কলকাতা: বিবেকানন্দ যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে দেখতে না (Dilip Ghosh on Messi Kolkata incident)পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল উত্তেজিত দর্শক। উত্তেজিত দর্শকরা গ্যালারিও ভাঙচুর করে। টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে না পাওয়া ক্ষুব্ধ দর্শকদের পাশে দাঁড়ালেন দিলীপ ঘোষ। মেসি কাণ্ডকে ঘিরে দিলীপ ঘোষ যে ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন, তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বকাপজয়ী বিশ্ববরেণ্য ফুটবলার লিওনেল মেসিকে নিয়ে যুবভারতীতে যা হয়েছে, তা শুধু একটি ব্যর্থ আয়োজন নয় এটি বাঙালির আন্তর্জাতিক অপমান।” তাঁর মতে, যারা কথায় কথায় বাঙালি অস্মিতা ও সংস্কৃতির কথা বলেন, তারাই রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাকে গোটা বিশ্বের সামনে লজ্জার মুখে ফেলেছেন।
Realme 16 Pro সিরিজের ক্যামেরা ডিজাইন প্রকাশ্যে: দেখুন প্রথম ঝলক
দিলীপ ঘোষ স্মরণ করিয়ে দেন, কলকাতার ফুটবল ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই শহরে একসময় পেলে, দিয়েগো মারাদোনার মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা এসেছেন। এমনকি লিওনেল মেসিও অতীতে কলকাতায় পা রেখেছেন। কিন্তু কখনও এমন বিশৃঙ্খলা বা দর্শকদের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ দেখা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, খেলাধুলা নিয়ে বাঙালির আবেগকে পুঁজি করেই রাজনীতি করার দুর্বুদ্ধির ফল এই ঘটনা।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে দিলীপ ঘোষ বলেন, হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও সাধারণ দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি। অথচ মাঠে মেসিকে ঘিরে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা। সাধারণ মানুষের প্রতি এই অবিচারই দর্শকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, “যারা টিকিটের জন্য সর্বস্ব খরচ করলেন, তারা গ্যালারিতে বসে শুধু বড় পর্দায় দেখলেন। আর রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের সেলফির হিড়িক চলল মাঠে।”
এই ঘটনাকে তিনি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেও মানতে নারাজ। দিলীপ ঘোষ বলেন, এর আগেও ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ম্যাচে দর্শকদের উপর লাঠিচার্জ হয়েছে। বারবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ প্রমাণ করে, এই সরকারের কাছে মানুষের আবেগ ও নিরাপত্তার কোনও মূল্য নেই। তুলনা টেনে তিনি বলেন, গুজরাতের স্টেডিয়ামগুলিতে লক্ষাধিক মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখতে যান, কিন্তু সেখানে কখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় না। সেখানকার ব্যবস্থাপনা থেকে বাংলা সরকারের শেখা উচিত বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব বিষয়েই রাজনৈতিক লাভ খোঁজেন। আইপিএলে কেকেআর জেতার পরেও সেটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো হয়েছে। নাচ-গান করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের ছোট মন নিয়ে বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান সফল হয় না।”
দিলীপ ঘোষের মতে, এই ঘটনার ফলে শুধু কলকাতার নয়, গোটা বাংলার বদনাম হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, “এই অপমানের জন্য দায়ী যারা, তাদের ধিক্কার জানাই।” মেসি কাণ্ডকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে দর্শকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণ সব মিলিয়ে যুবভারতী কাণ্ড এখন শুধু ক্রীড়া বিতর্ক নয়, বরং এক বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
