বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) আবারও তৃণমূল কংগ্রেসকে একের পর এক আক্রমণ করেছেন। তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে অশান্তি, সন্ত্রাস, এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। দিলীপ ঘোষের মতে, বর্তমানে তৃণমূলের রাজনীতি যে অবস্থা পৌঁছেছে, তাতে একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে গিয়েছে, অন্যদিকে রাজ্যের উন্নয়নও থমকে গেছে। তার আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব, যারা তার মতে, জনগণের কল্যাণের বদলে নিজেদের স্বার্থেই রাজনীতি করছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, “SIR-এর জন্য তৃণমূলে আগুন লেগে গিয়েছে। ১ কোটি লোকের নাম বাদ দিলে কোথায় থাকবে তৃণমূল?” এই মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি এখন একেবারে দুর্বল। তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের ফলে দলটি শীঘ্রই বড় ধরনের রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়বে। তার মতে, দলটির বড় নেতৃত্বের মধ্যে অস্থিরতা এবং জনগণের মধ্যে আস্থা না থাকার কারণেই দলটি এখন সংকটে। দিলীপ ঘোষের কথায়, রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে একের পর এক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তার অভিযোগ, তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করার বদলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করছে। তার ভাষায়, “রাজ্য সরকার মানুষের কল্যাণের বদলে নিজেদের পার্টির স্বার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভোটের সময় সুবিধা পাওয়ার জন্য দুর্নীতির সাথে জড়িত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে রাজ্য শিগগিরই অরাজকতার মধ্যে পড়ে যাবে।”
দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি তাদের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তৃণমূলের শাসনকালে রাজ্যে অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে। খুন, দাঙ্গা, ধর্ষণ, এবং হিংসার মতো অপরাধের বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজ্যের জনগণ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সন্ত্রাসের রাজনীতি চলছেই।” তার এই অভিযোগের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া, দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের শাসনকালকে ‘গুন্ডারাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখন রাজ্যজুড়ে যা চলছে, তাতে একমাত্র সন্ত্রাসী এবং গুন্ডারা শাসন করছে। সঠিকভাবে রাজ্য পরিচালিত হচ্ছে না। এমনকি সরকারি অফিসগুলোতে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য চলে এসেছে। এই অবস্থায় কীভাবে রাজ্যের উন্নয়ন হবে?” তার অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদী শক্তির সাথে যুক্ত লোকেরা রাজ্যে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
একই সময়, দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের মধ্যে যে ‘গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব’ চলছে তা নিয়েও কথা বলেছেন। তার মতে, তৃণমূলের মধ্যে একাধিক শীর্ষ নেতা নিজেদের স্বার্থের জন্য একে অপরকে ফাঁসাচ্ছে এবং দলটির ভিতরে বড় ধরনের বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। “যারা তৃণমূলের জন্য কাজ করেছিল, আজ তারা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। যারা এখনও আছেন, তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে একে অপরকে শত্রু মনে করছেন,” এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া, দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের মূল সমস্যা হলো তাদের সংগঠন ঠিকভাবে কাজ করছে না। যাদের ওপর দলকে ভরসা করা উচিত ছিল, তারা আজ দুর্নীতির সাথে যুক্ত হয়ে দলকে আরও দুর্বল করছে।” তার এই বক্তব্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের জন্য এক বড় সতর্কবাণী বলে মনে করা হচ্ছে। দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া না এলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পর তৃণমূলের মুখ্য নেতারা এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
