Home West Bengal Kolkata City বড়দিনে সবজির বাজারে কি হালচাল

বড়দিনে সবজির বাজারে কি হালচাল

sunday-market-vegetable-prices-west-bengal

বড়দিনের ঠিক আগে শীতের আমেজের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির রান্নাঘরে এল কিছুটা স্বস্তির খবর (Christmas vegetable market prices)। উৎসবের মরসুমে যেখানে সাধারণত সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকে, সেখানে চলতি বছর বড়দিনে রাজ্যের বেশিরভাগ বাজারেই সবজির দামে তুলনামূলক স্থিতাবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলার পাইকারি ও খুচরো বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তি।

Advertisements

সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে পেঁয়াজ ও আলুর দাম। বড় পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৭ টাকায় এবং ছোট পেঁয়াজ ৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় অনেকটাই কম। আলুর দামও নিয়ন্ত্রণে কেজি প্রতি ২৯ টাকায় আলু পাওয়া যাচ্ছে। বড়দিনের রান্নায় টমেটোর ব্যবহার বেশি হলেও, টমেটোর দাম রয়েছে ৩৮ টাকা কেজিতে, যা উৎসবের সময়ের জন্য যথেষ্ট সহনীয়।

   

ঢাকায় ঐতিহাসিক মধুদার ক্যান্টিন ভাঙচুর অজ্ঞাত যুবকের

শীতকালীন সবজির জোগান বাড়ায় ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামেও স্বস্তি মিলেছে। ফুলকপি কেজি প্রতি ৩১ টাকা এবং বাঁধাকপি ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাজরের দাম রয়েছে ৪২ টাকা কেজিতে, বিট ৩৮ টাকা এবং শসা ২৬ টাকায় মিলছে। বাজারের বিক্রেতাদের মতে, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় মাঠ থেকে সরাসরি বাজারে শাকসবজি আসছে, ফলে দামে লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে।

শাকের বাজারেও বড়দিনে মুখে হাসি ক্রেতাদের। ধনেপাতা ১৪ টাকা, মেথি শাক ১৬ টাকা, ডিল শাক ১৪ টাকা এবং কলমি বা অন্যান্য শাকের দামও ১৫–২০ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। আমরান্থ লিভস (নটে শাক) কেজি প্রতি ১৭ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণত উৎসবের সময়ে ২৫ টাকার গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলে।

তবে সব সবজির দাম যে একেবারেই কম, তা নয়। কিছু কিছু সবজি এখনও তুলনামূলক চড়া। যেমন ডাঁটা (ড্রামস্টিক) কেজি প্রতি ১৫০ টাকা, আমলা ৭৫ টাকা এবং নারকেল ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্যাপসিকাম ৫২ টাকা, করলা ৩৬ টাকা এবং বেগুনের দাম ৩৪ থেকে ৪৪ টাকার মধ্যে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই সবজিগুলির উৎপাদন তুলনামূলক কম এবং পরিবহণ খরচ বেশি হওয়ায় দাম এখনও কিছুটা বেশি।

সব মিলিয়ে বড়দিনের বাজারে দাম বৃদ্ধির আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তির দিকটাই বেশি। উৎসবের দিনে মাছ-মাংসের সঙ্গে সবজি কিনে রান্না করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে না। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন এই দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে, কারণ শীতকালীন ফসলের জোগান আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড়দিনে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে সবজির বাজারে এই নিয়ন্ত্রণ বাঙালির পকেটকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে এ কথা বলাই যায়।

Advertisements