
গতকাল গঙ্গাসাগরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) গঙ্গাসাগরের পরিকাঠামো ও পর্যটন উন্নয়নের বিভিন্ন অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সূচনা করেন। সভায় তিনি বলেন, “আগে গঙ্গাসাগরের পরিকাঠামো ছিল অত্যন্ত খারাপ। ২০১১ সালের আগে এখানে পর্যটন ও সুবিধার কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু আমাদের সরকার এরপর থেকে একটানা কাজ করে উন্নয়নের রূপ দিয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) আরও জানান, বর্তমানে গঙ্গাসাগরের কাছে একাধিক হেলিপ্যাড তৈরি হয়েছে, যা পর্যটক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সহজ ও সুরক্ষিত পরিবহন নিশ্চিত করবে। এই হেলিপ্যাডগুলো পর্যটন বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, তিনি জানান যে, কতগুলি জেটি তৈরি হয়েছে, যা সমুদ্রযাত্রা ও পর্যটক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন ও তদারকিতে তিন থেকে চারজন মন্ত্রী সরাসরি নিয়োজিত থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) নিজে নিয়মিত এখানে নজরদারি করেন, যাতে সমস্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, “পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে এখানে আসতে পারেন, তার জন্য আমরা কুড়িটি কটেজ তৈরি করেছি। এই কটেজগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছে — ‘গঙ্গান্ন’। এটি শুধু থাকার জন্য নয়, বরং পর্যটকরা যেন গঙ্গাসাগরের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, তার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।”
উক্ত সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও তুলে ধরেন যে, ২০১১ সালের পর থেকে গঙ্গাসাগরের পরিকাঠামো উন্নয়ন কেবল পর্যটনের জন্য নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “গঙ্গাসাগরের উন্নয়ন শুধু পর্যটন বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এখানে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, হেলিপ্যাড, জেটি এবং পর্যটক কেন্দ্রগুলি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, গঙ্গাসাগরের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করা হয়েছে। এতে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ পরিবেশ বান্ধব এবং টেকসই হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই গঙ্গাসাগর শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে না দাঁড়ায়, বরং এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হোক।”
সভায় উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় জনগণও সরকারের এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, কটেজ, হেলিপ্যাড এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক বছরে গঙ্গাসাগরের আরও উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করা হবে। এতে পর্যটকরা আরো সহজে এবং নিরাপদে এখানে আসতে পারবে।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী সকলকে আশ্বস্ত করেন যে, গঙ্গাসাগরের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে চলমান এই প্রকল্পগুলি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো তৈরি করা নয়। আমরা চাই যে, গঙ্গাসাগর হোক একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে প্রতিটি পর্যটক একটি নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।”










