কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আগামী ৭ ডিসেম্বর সাক্ষী হতে চলেছে এক অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক সমাবেশের। আয়োজকদের দাবি—এদিন প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ একত্রে গীতাপাঠ (Gita path) করবেন, যা শুধু কলকাতা নয়, গোটা পূর্ব ভারতের জন্যই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। বহু সংগঠন ও সামাজিক গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। এর মধ্যেই হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভা তাদের সক্রিয় সমর্থন ঘোষণা করে সমাবেশকে আরও গুরুত্বের কেন্দ্রে এনে দিল।
🌿 ঐতিহাসিক হতে চলেছে ব্রিগেডের আধ্যাত্মিক সমাবেশ
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বহুবার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইতিহাস রচনার সাক্ষী হয়েছে। তবে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে এত বৃহৎ সমাবেশ এর আগে খুব কমই দেখা গেছে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী—
-
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা,
-
কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত,
-
গ্রাম ও মফস্বল অঞ্চল,
-
এমনকি প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও ভক্তরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসবেন।
গণপরিবহনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী দল ও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক সংগঠন মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষা ও দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় সাহায্য করবে।
🕉️ হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার সমর্থন ঘোষণায় উৎসাহ বাড়ল আয়োজকদের
হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার কেন্দ্রীয় সভাপতি আকাশ সাধু জানান—
“দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জাগরণ দেখা যাচ্ছে, বৃহৎ গীতাপাঠ সেই ধারারই শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। এই উদ্যোগকে আমরা সক্রিয় সমর্থন জানাচ্ছি এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান করছি।”
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে
-
স্বেচ্ছাসেবক পাঠানো,
-
মাঠ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা,
-
দর্শনার্থীদের গাইড করা,
-
এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
🕯️ কেন এত বড় গীতাপাঠের আয়োজন?
আয়োজক কমিটির মতে, আজকের সমাজে
-
পারিবারিক চাপ,
-
মানসিক ক্লান্তি,
-
সামাজিক বিভাজন,
-
আর দ্রুত জীবনের দৌড়ে মানুষ ক্রমেই আধ্যাত্মিক শান্তি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
এ কারণে গীতা পাঠের মতো কর্মসূচি মানুষকে মানসিক শান্তি, নৈতিক শক্তি, সংহতি ও মূল্যবোধে নতুন দিশা দিতে পারে। গীতার সারবত্তা—নিষ্কাম কর্ম, ধৈর্য, সংযম এবং কর্তব্যবোধ—আজকের সামাজিক বাস্তবতায় আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
একসঙ্গে পাঁচ লক্ষ মানুষের গীতাপাঠ তাই শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়—এটি একটি সামাজিক ঐক্যের বার্তা।
🔱 শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিতেই আয়োজন
আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচি কোনো রাজনৈতিক বা বিভাজনমূলক অনুষ্ঠান নয়। উদ্দেশ্য শুধুই—
✔ ভারতীয় সংস্কৃতি উদযাপন
✔ হাজারো মানুষের একাত্মতা সৃষ্টি
✔ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা
এই কারণে বহু স্কুল, কলেজ, সামাজিক সংগঠনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহী।
📍 প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়: বিশাল জনসমাগম সামলাতে প্রস্তুতি
এত বড় অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতা পুলিশ, দমকল থেকে ট্রাফিক বিভাগ—সবাইকে ইতিমধ্যেই অবগত করা হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ রুট ম্যাপ তৈরি হচ্ছে।
-
মেডিক্যাল ক্যাম্প
-
পানীয় জলের স্টল
-
হারিয়ে যাওয়া শিশু/মহিলাদের সহায়তা কেন্দ্র
-
এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষ সাহায্য ডেস্ক
এই ব্যবস্থাগুলি মাঠে তৈরি থাকবে বলে জানা গেছে।
🧭 গীতাপাঠের অনুশীলন ইতিমধ্যেই শুরু
দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতার বহু মন্দির, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যোগ ও ধ্যান কেন্দ্র ইতিমধ্যেই গীতাপাঠের অনুশীলন করছে। অনেক জেলায় স্থানীয় কমিটি বাস ভাড়া করে ব্রিগেডে যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় সমাবেশ শহরের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।
-
ব্যবসা,
-
পরিবহন,
-
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট,
-
ক্ষুদ্র দোকানদার
—সবারই উপকার হবে।
📢 শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি জোরদার
অনুষ্ঠানের দিন ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আয়োজকরা বলছেন—“ব্রিগেড আগে রাজনৈতিক ভাষণের মাঠ ছিল। এবার এটি আধ্যাত্মিক জাগরণের মঞ্চ হয়ে উঠবে।”
হিন্দু জনজাগৃতি মহাসভার সমর্থন ঘোষণার পর অনেকেই মনে করছেন—সমাবেশে মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং এই অনুষ্ঠান ভারতে বৃহত্তম গীতাপাঠ সমাবেশগুলোর একটি হয়ে উঠবে।
