কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের সামনে ফের উত্তেজনা ছড়াল (BLO protest at CEO office)। সোমবার থেকে চলা বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বিক্ষোভ মঙ্গলবার আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসপন্থী বলে পরিচিত ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে শত শত বিএলও দফতরের সামনে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের দাবি, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় অমানুষিক কাজের চাপ এবং মানসিক অত্যাচার সহ্য করা সম্ভব নয়।
বিএলও অ্যাপে নতুন নিয়ম, হিয়ারিং নোটিস ডেলিভারি এবং ঘন ঘন গাইডলাইন পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। কিন্তু দফতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিবাদী বাগ এলাকা। উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার লিস্ট সংশোধনের জন্য বিএলওদের উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানো হয়েছে। ঘরে ঘরে গিয়ে ফর্ম ভর্তি, ডিজিটাইজেশন, লজিক্যাল এরর চেক এবং এখন নতুন করে হিয়ারিং নোটিস ডেলিভারি সব মিলিয়ে বিএলওরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছেন বলে অভিযোগ। এক বিক্ষোভকারী স্বপ্না মণ্ডল বলেন, “নির্বাচন কমিশন প্রায় প্রতিদিন নতুন নিয়ম জারি করছে।
বিএলও অ্যাপে আন্ডারটেকিং জমা দিতে হচ্ছে, যাতে কোনো ভুল হলে দায় আমাদের উপর চাপানো হয়। আমরা স্কুলের শিক্ষক, রাত জেগে কাজ করছি। এটা অমানুষিক।” অনেকে অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় নিয়োগ করা মাইক্রো অবজার্ভাররা বিএলওদের তদারকি করছেন, কিন্তু সাহায্য করছেন না। বরং চাপ বাড়াচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, “মাইক্রো অবজার্ভাররা আমাদের সাহায্য করুক, শুধু দেখে যাবেন না।”
গতকাল থেকে দফতরের সামনে ধর্না শুরু হয়। বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির নেতারা সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এর জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন দিক থেকে বিএলওরা জমায়েত হন। ব্যারিকেডের সামনে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ না করলেও ধরে টেনে সরানোর চেষ্টা করে।
এক মহিলা বিক্ষোভকারীকে পুলিশ ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাল্টা এক পুলিশ কর্মী আহত হন। উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, বিক্ষোভকারীরা দফতরে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করায় এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
