
নয়াদিল্লি: কলকাতায় আই-প্যাক অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়ের (Bar Council)মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করলেন ভারতের বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ মনন কুমার মিশ্র। গতকালের ইডি অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপকে তিনি ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ এবং ‘লজ্জাজনক’ বলে সমালোচনা করে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন। মিশ্রের মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া, তদন্তে হস্তক্ষেপ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরিয়ে নেওয়া গুরুতর অপরাধ।
তিনি বলেন, “ইডির অভিযান চলাকালীন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে সব গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নিয়ে চলে আসেন, তাহলে এটা মারাত্মক ক্রাইম। ইডির উচিত এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া। সরকারেরও এই বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা।
২০২৬ সালের প্রথম লঞ্চের ঘোষণা করল ইসরো, কবে কোন স্যাটেলাইট পাঠান হবে মহাকাশে?
সরকারকে এটাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।”ঘটনার সূত্রপাত গতকাল। ইডি কয়লা চুরির মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের তদন্তে আই-প্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে অভিযান চালায়।
এই সংস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অভিযান চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যান এবং একটি সবুজ ফাইল সহ কিছু ডকুমেন্টস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডি এটিকে পিএমএলএ আইনের অধীনে তদন্তে বাধা এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা বলে অভিযোগ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। তারা সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
পাল্টা মমতা বলেছেন যে, ইডি দলের গোপনীয় নির্বাচনী তথ্য লুট করার চেষ্টা করছিল এবং তিনি শুধু দলের সম্পত্তি রক্ষা করেছেন।বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবে মনন কুমার মিশ্রের এই বিবৃতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি দেশের আইনজীবী সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধি। তাঁর কথায় আইনের শাসনের প্রশ্ন উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রীর এমন আচরণ আইনের শাসনের উপর আঘাত।
কেন্দ্রীয় সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালন করছে, সেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।” বিজেপির রাজ্য নেতারা এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন যে, এটি মমতার ‘অহংকারের’ পরিণতি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কথা থেকে স্পষ্ট যে, মুখ্যমন্ত্রী আইন ভঙ্গ করেছেন। এখন ইডি এবং সরকারের উচিত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।”








