মেসির আগমনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Aroop Biswas resignation)। মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছিল ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকে। আজ এই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। অরূপ তার চিঠিতে স্পষ্ট লিখেছেন যে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি পদত্যাগ করছেন।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির আগমন ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়েছিল তা নিয়ে নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সূত্রের খবর মারফত জানা যাচ্ছে যে ডিজি রাজীব কুমারকে শো কজ করা হয়েছে এই ঘটনায়। পুলিশের ডিসিপি অনীশ সরকারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
যুবভারতী স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু বিশৃঙ্খলা নয়, অনেকের মতে এটি একটি পরিকল্পিত ব্যর্থতা ও বড়সড় কেলেঙ্কারি, যা চিরদিনের জন্য কলকাতার ভাবমূর্তিতে কালো দাগ হয়ে থেকে যাবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ দাবি করেছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কলকাতায় লিওনেল মেসিকে আনা হয়েছিল এমনটাও অভিযোগ করেছিল তারা।
তারা বলেছিল মেসির এই সফর ঘিরে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এতো দামের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এবং তারা সরাসরি তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেছিল যে সাধারণ মানুষের টাকা চুরি করে ২৬ নির্বাচনের টাকা তুলে নিল তৃণমূল। দর্শকের মিথ্যে বুঝিয়ে মাঠে নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এমনটাই অভিযোগ করেছিল তারা।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। চরম অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার অভাবে মেসিকে কার্যত অনুষ্ঠানেই থাকতে দেওয়া হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে দর্শকদের সামনে কোনও কর্মসূচিই কার্যত হয়নি। হতাশা, ক্ষোভ আর প্রতারণার অনুভূতিতে ফেটে পড়ে জনতা। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠে নেমে পড়েন, ভাঙচুর চলে গ্যালারিতে, ছিঁড়ে ফেলা হয় পোস্টার, চেয়ার। যদিও সৌভাগ্যবশত বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।
তবে মেসি কাণ্ডে অরূপের ইস্তফা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে চায় তৃণমূল। তাই তড়িঘড়ি অরুপকে দিয়ে ইস্তফা দেওয়ানো হয়েছে এবং রাজীব কুমারের মত হেভি ওয়েট পুলিশ অফিসার এবং ডিজি কে শো কজ করা হয়েছে। তাদের মতে তৃণমূলের এই খেলা শুধুমাত্র নির্বাচনকে মাথায় রেখেই।

