কলকাতা: মেসি কাণ্ডে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ( Aroop Biswas’s Resignation)দেওয়ার পর যখন রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা ও কটাক্ষের ঝড় উঠেছে। ঠিক সেই সময় অরূপ বিশ্বাসের পাশে দাঁড়ালেন বলাগড়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক ও বিশিষ্ট লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। প্রকাশ্যে অরূপ বিশ্বাসের পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি একে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
মনোরঞ্জন ব্যাপারীর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি অরূপ বিশ্বাসকে কেবল একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও মূল্যায়ন করছেন। তিনি বলেন, “মাননীয় অরূপ বিশ্বাস মহাশয় আদ্যোপান্ত একজন ভালো মানুষ। অনেক বছর আগে থেকেই ওনাকে চিনি। কারণ আমার জীবনের অনেকটা সময় যাদবপুরে কেটেছে।” তাঁর এই ব্যক্তিগত পরিচয়ের উল্লেখ থেকেই বোঝা যায়, অরূপের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিকও।
ডুয়েল-চ্যানেল ABS সহ লঞ্চ হল 2025 Bajaj Pulsar 220F, দাম ১.২৮ লাখ
মেসি যেদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন, সেই দিন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও দায়িত্বপরায়ণ এমনটাই দাবি করেছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তাঁর মতে, সৌজন্যতা ও দায়িত্ববোধ থেকেই অরূপ সেদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মাঠে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তার জন্য তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীকে দায়ী করতে নারাজ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, সেদিন যুবভারতীতে যে অব্যবস্থার কারণে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আয়োজকদের।
বিধায়কের যুক্তি অনুযায়ী, যদি সেদিন একটি খোলা গাড়িতে মেসিকে মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত একবার ঘুরিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে দর্শকদের এতটা ক্ষুব্ধ হওয়ার সম্ভাবনাই থাকত না। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় স্টেডিয়ামে এসেছিলেন, সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়াতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মনোরঞ্জন ব্যাপারী সরাসরি বিজেপিকেও নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, “বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল এইরকম একটা সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে বসেছিল। সুযোগ পাওয়া মাত্র তাঁরা যা করার তা করে দিয়েছে।” অর্থাৎ, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেই তাঁর দাবি।
তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে এবং তাতেই স্পষ্ট হবে কে অপরাধী, কে নিরপরাধ। তবে এর মধ্যেই অরূপ বিশ্বাস যে ভাবে তদন্তের স্বার্থে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মনোরঞ্জন ব্যাপারীর মতে, রাজনীতিতে এমন দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত খুব কমই দেখা যায়।
এই প্রসঙ্গে তিনি দেশের একাধিক বড় ঘটনার উদাহরণ টেনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, “গুজরাট দাঙ্গার পরে মোদী পদত্যাগ করেননি। পুলওয়ামা বা পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পরেও পদ আঁকড়ে বসে ছিলেন। কুম্ভ মেলায় অসংখ্য মানুষ মারা যাওয়ার পরেও যোগী আদিত্যনাথ পদত্যাগ করেননি।” অথচ যুবভারতীতে যা কিছু ঘটেছে, তার দায় স্বীকার করে অরূপ বিশ্বাস পদত্যাগ করেছেন এটাই বাংলার রাজনীতিকে আলাদা করে তোলে বলে মন্তব্য তাঁর।
মনোরঞ্জন ব্যাপারীর মতে, “মা-মাটি-মানুষের সরকার” এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব বলেই এমন সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই পদত্যাগ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নজির হয়ে থাকবে, যেখানে নৈতিক দায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক সুবিধার ঊর্ধ্বে। সব মিলিয়ে, অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগকে ঘিরে যে বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে, তার মধ্যেই মনোরঞ্জন ব্যাপারীর এই বক্তব্য তৃণমূল শিবিরে স্বস্তির বার্তা দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
