
কলকাতা: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার (Yuva Bharati vandalism) ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য অব্যাহত। তদন্তে নেমে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে ধৃত ওই ব্যক্তির নাম রূপক মণ্ডল। বুধবার তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ভেতরে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কোন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়, কারা সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিল এবং কারা নেপথ্যে থেকে উসকানি দিয়েছিল—এই সমস্ত বিষয় খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মতো রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠন করা হয়েছে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)। এই বিশেষ তদন্তকারী দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিক পীযূষ পাণ্ডে, জাভেদ শামিম, সুপ্রতিম সরকার এবং মুরলীধর শর্মা।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বুধবার থেকেই সিট তাদের কাজ শুরু করেছে। তদন্তকারী দলের সদস্যরা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কোথায় কী ধরনের ভাঙচুর হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এবং ঘটনার দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ফাঁক ছিল—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বা আধিকারিকদের তরফে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এমন আরও কয়েকজনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসবে এবং সেই অনুযায়ী গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এই ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন ভবিষ্যতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বড় কোনও অনুষ্ঠান বা জনসমাগমের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কথা ভাবছে। প্রবেশপথে বাড়তি তল্লাশি, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, আধুনিক সিসিটিভি নজরদারি এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হতে পারে। প্রশাসনের একাংশের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷










