আর জি কর কান্ডে চিকিৎসক ও আন্দোলনকর্মী অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato) সম্প্রতি জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট এবং ট্রাস্টের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংগঠনের পরিবেশ, পরিচালনা এবং কর্মপদ্ধতি নিয়ে তার অভিযোগ রয়েছে, যার জন্য তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে Aniket Mahato আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনিকেত মাহাতো, যিনি আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রতি তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের কারণ হিসাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্তহীনতা ও প্রশাসনিক অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরেছেন।
অনিকেত মাহাতো, যে কিনা জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে অন্যতম, সংগঠনের উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, সংগঠন এখন আর তার মূল উদ্দেশ্য ও আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ নেই, এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। “আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম, তা ছিল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং চিকিৎসকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু বর্তমানে সংগঠনের কর্মপদ্ধতি ও পরিবেশে পরিবর্তন আসেনি, বরং অনেক বিভাজন ও দলবাজির সৃষ্টি হয়েছে,” বলেন অনিকেত। এছাড়া, তিনি বলেন যে, সংগঠনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আনা হলে ভবিষ্যতে আরও নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে। তাঁর পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু সদস্যও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সংগঠন ছেড়েছেন। অনিকেত আরো জানান, “আমি এই পদত্যাগের মাধ্যমে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছি। যদি সংগঠন তার আসল উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করতে চায়, তবে অবশ্যই কিছু নীতি ও কর্মপদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে।”
এটি শুধু ব্যক্তিগত পদত্যাগ নয়, বরং পুরো সংগঠনের জন্য একটি বড় সংকট সৃষ্টি করেছে। অনিকেত মাহাতো যে “আরজি কর” আন্দোলনের অন্যতম নেতা, তার এই পদত্যাগ সংগঠনটির সম্মান ও প্রতিপত্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। “আরজি কর” আন্দোলন ছিল যুব চিকিৎসকদের সমর্থনে একটি সামাজিক আন্দোলন, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অনিকেতের নেতৃত্বে এই আন্দোলন সামাজিক ন্যায় এবং চিকিৎসকদের বৈষম্য দূর করার জন্য অনেক সমর্থক অর্জন করেছিল।
তার পদত্যাগের পর, জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের অনেক সদস্যই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ সংগঠনের মূল কাঠামো এবং নেতৃত্বের ভূমিকা অনেকটাই অনিকেতের উপর নির্ভরশীল ছিল। তারা মনে করছেন, সংগঠন থেকে অনিকেতের চলে যাওয়ার পর কি নতুন নেতৃত্ব আসবে, এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তবে, সংগঠনটির বর্তমান সদস্যরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এ পরিস্থিতিতে আরও সুসংগঠিত হয়ে কাজ করার জন্য নতুন নেতৃত্ব আসবে, এবং আন্দোলনের মূল লক্ষ্যগুলির প্রতি আরো নিষ্ঠা বজায় থাকবে।
