কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা (Amit Shah)নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিনদিনের বঙ্গ সফর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কলকাতায় পা রেখেই শাহ বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে পৌঁছে দলের কোর কমিটির সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক শুরু করেন। এরপর ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক, সাংবাদিক সম্মেলন এবং আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি দলের নির্বাচনী রোডম্যাপকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করেছেন।
বিশেষ করে ৩১ ডিসেম্বর কলকাতার একটি হোটেলে রাজ্যের বিজেপি এমপি এবং এমএলএদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই বৈঠকে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বুথ-স্তরের ফিডব্যাক নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ভোটে কীভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ জানানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।অমিত শাহের এই সফরকে বিজেপির বঙ্গে ‘মিশন ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রেন টিকিট বুকিংয়ের নিয়মে বড় বদল, ২০২৬ থেকে নতুন সময়সূচি
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েছিল বিজেপি, কিন্তু সরকার গড়তে পারেনি। এবার দলের লক্ষ্য দু-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করা। শাহ নিজেই সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ পরিবর্তনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিজেপি সরকার গঠন করলে রাজ্যের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে, দরিদ্র কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং অনুপ্রবেশ রোধে শক্তিশালী ন্যাশনাল গ্রিড তৈরি করা হবে।”
তিনি তৃণমূল শাসনের ১৫ বছরকে ভয়, দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশের যুগ বলে কটাক্ষ করেছেন। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ কাণ্ড, সন্দেশখালি এবং মহিলা নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন।৩১ ডিসেম্বরের এমপি-এমএলএ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ অন্যান্য নেতারা।
বৈঠকে মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনেক মতুয়া নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে, যা বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শাহ নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে। এছাড়া কলকাতা মহানগরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের বুথ-স্তরের কর্মীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে তিনি কর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহ বৈঠকে জোর দিয়েছেন পজিটিভ ক্যাম্পেইনিং-এ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হলেও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে হাইলাইট করতে বলেছেন।শাহের সফরে আরএসএস-এর সঙ্গে সমন্বয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর মানিকতলার কেশব ভবনে আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে ক্যাডার মোবিলাইজেশন এবং বুথ-স্তরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এছাড়া ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিয়ে সাংস্কৃতিকভাবেও বার্তা দিয়েছেন। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “শাহের আগমনে কর্মীদের মনোবল বেড়েছে। বাংলায় পরিবর্তন আসন্ন।” অন্যদিকে তৃণমূলের কুণাল ঘোষ পাল্টা বলেছেন, “শাহ ফ্লপ জ্যোতিষী, বিজেপি বাংলায় হারবে।”
