কলকাতা: অসম সফরের পর মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ (Amit Shah)সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে চলেছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের দাবি। বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাস বদল এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুকে ফের জোরালোভাবে সামনে আনার প্রস্তুতি চলছে।
তবে এই রাজনৈতিক বার্তার মাঝেই সংসদের সদ্যসমাপ্ত শীতকালীন অধিবেশনে অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ অভিবাসী সংক্রান্ত কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে রাজি হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই তথ্যকে ‘গোপন’ বলে জানিয়ে সংসদে প্রশ্নের উত্তরই দেয়নি।
পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর বৈষম্যের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি অধীরের
এই বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের করা দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে ঘিরে। নিয়ম মেনেই শীতকালীন অধিবেশন শুরুর দু’সপ্তাহ আগে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন জমা দেন। প্রথম প্রশ্নে তিনি জানতে চান, গত ১০ বছরে দেশে কতজন অনুপ্রবেশকারী বা অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার হয়েছেন, তার বছর ও রাজ্যভিত্তিক সম্পূর্ণ বিবরণ। দ্বিতীয় প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, তাঁদের মধ্যে কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তার বছর ও দেশভিত্তিক তথ্য।
গোটা অধিবেশন জুড়ে এই দুই প্রশ্নের কোনও উত্তর না মেলায় রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি দেন সুখেন্দুশেখর। উত্তরে জানানো হয়, অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিষয়টি জানানো হবে। কিন্তু গত ২৫ ডিসেম্বর রাজ্যসভার পোর্টালে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রশ্ন দু’টি ‘প্রত্যাখ্যান’ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, রাজ্যসভার নিয়ম অনুযায়ী ‘বিদেশি কোনও বন্ধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উল্লেখ’ এবং ‘গোপন বিষয়’ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা যায় না।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, “আমি অত্যন্ত সহজ ও নিয়মসিদ্ধ প্রশ্ন করেছিলাম। ১৪ বছর রাজ্যসভার রুলস কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়মকানুন আমার জানা। আমার প্রশ্নে কোনও বন্ধু রাষ্ট্রের নাম ছিল না, অসৌজন্যের প্রশ্নই ওঠে না। ধৃত অনুপ্রবেশকারী বা অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা জানানো কীভাবে গোপনীয়তার আওতায় পড়ে, সেটাই আমার বোধগম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির নেতারা প্রকাশ্যে বলেন, কিছু রাজ্যে এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে যে জনবিন্যাস বদলে গেছে। তা হলে সংসদে সেই সংখ্যাগুলো জানাতে সমস্যা কোথায়?”
তৃণমূল শিবিরের প্রশ্ন, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজনৈতিক আক্রমণ জোরদার করার সময়েই কি প্রকৃত তথ্য চাপতে চাইছে কেন্দ্র? কারণ অতীতে কিন্তু সংসদে তথ্য দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের বাদল অধিবেশনে এক প্রশ্নের উত্তরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৭,০৫৬ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই প্রায় ২,২০০ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ যখন পশ্চিমবঙ্গে এসে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তার কথা বলছেন, তখন সংসদে তথ্য গোপন রাখার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্ক আরও উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
