শাহ সফরে বিধানসভার প্রার্থী বাছাইয়ে একাধিক চমক

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের এখনও কয়েক (Amit Shah)মাস বাকি থাকলেও এখনই প্রার্থী বাছাই ও ভোট-প্রস্তুতিতে জোর দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফরকে…

amit-shah-bjp-west-bengal-assembly-candidate

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের এখনও কয়েক (Amit Shah)মাস বাকি থাকলেও এখনই প্রার্থী বাছাই ও ভোট-প্রস্তুতিতে জোর দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফরকে ঘিরে বিজেপির অন্দরমহলে প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে একাধিক ‘চমক’ রাখতে চলেছে গেরুয়া শিবির।

Advertisements

সূত্রের খবর, ২৯৪টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই হাজারেরও বেশি জীবনপঞ্জি জমা পড়েছে বিজেপির কাছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গতবারের মতো এই জীবনপঞ্জিগুলি কোনও প্রভাবশালী নেতার হাতে নয়, বরং সরাসরি রাজ্য বিজেপি দফতরের অফিস সম্পাদকের কাছে জমা নেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

   

মমতার ময়দানেই শাহের চ্যালেঞ্জ: অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি

প্রার্থী বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়মিত নজর রাখছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব এবং তাঁর সহকারী বিপ্লব দেব। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাঁরা রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম, এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাদার সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্টও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, অমিত শাহ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি থাকার সময় থেকেই সমীক্ষা সংস্থার রিপোর্টের ওপর জোর দেওয়া শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের প্রবণতা আরও বেড়েছে। সেই অনুযায়ী, বিধানসভা-ভিত্তিক অন্তত তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

এই সমীক্ষা রিপোর্ট এবং সংগঠনের জেলা ও রাজ্য স্তরের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবারের প্রার্থী তালিকায় অন্য দল থেকে আসা নেতা এবং তথাকথিত তারকা মুখ যতটা সম্ভব কম রাখা হবে। পরিবর্তে দীর্ঘদিনের পরিচিত, সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং বিতর্কহীন মুখদেরই অগ্রাধিকার দিচ্ছে আরএসএস এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

এর ফলে বর্তমান একাধিক বিজেপি বিধায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি, জনপ্রতিনিধিদের কাজকর্ম, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক রিপোর্টের ভিত্তিতে অনেক বিধায়কের টিকিট কাটা যেতে পারে বা আসন বদল হতে পারে। উত্তরবঙ্গের নাটাবাড়ি, কোচবিহার দক্ষিণ, শীতলকুচি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া, গাজল, ইংরেজবাজার ও কালিয়াগঞ্জের বর্তমান বিধায়কেরা বাদ পড়তে পারেন বলে জোর চর্চা চলছে।

দক্ষিণবঙ্গেও সম্ভাব্য বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। বহরমপুর আসনে বর্তমান বিধায়ক সুব্রত মৈত্রের পরিবর্তে কোনও চিকিৎসক অথবা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখকে প্রার্থী করার ভাবনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। পাশাপাশি কল্যাণী, পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি এবং কাঁথি উত্তর কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়কদের ক্ষেত্রেও টিকিট কাটা বা আসন বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

সব মিলিয়ে, অমিত শাহের সফরের পর বিজেপি যে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক পথে হাঁটতে চলেছে, তা স্পষ্ট। ‘জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা’ এবং ‘সংগঠনের প্রতি আনুগত্য’ এই দুই মাপকাঠিকেই সামনে রেখে তৈরি হতে চলেছে বিজেপির বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কৌশলই ভোটের ময়দানে বিজেপির সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে।

Advertisements