কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিলেন। এই পুজো অনুষ্ঠানটি ছিল ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের মেলবন্ধন হিসেবে দেখা যায়। সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরিপূর্ণ ছিল।
অমিত শাহের আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার সম্পূর্ণ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। বিভিন্ন সরকারি ও মন্দিরকর্তা কর্মীরা আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। স্থানীয় ভক্তরা সকাল থেকে মন্দিরে উপস্থিত হয়ে পুজোর অনুষ্ঠান দেখতে এবং অমিত শাহকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মন্দির প্রাঙ্গণ শোভা পেয়েছিল ধূপধুনো, ফুলের মালা ও রঙিন আলোকসজ্জায়।
পুজোর সময় অমিত শাহ ভক্তদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক অনুভূতি ভাগাভাগি করেন। তিনি মন্ত্রপাঠের সময় মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি স্থানীয় ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পুজো শেষে অমিত শাহ বলেন, “কালীবাড়ির এই পুজো আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মীয় চেতনায় মিলে যাওয়া এই অনুষ্ঠান আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্যকেই আরও দৃঢ় করে।”
পুজো শেষে অমিত শাহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিজেপির আগামী পরিকল্পনা সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন। যদিও তিনি সরাসরি কোনও নির্বাচনী বার্তা দেননি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, “ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক ঐক্যের প্রকাশ।” স্থানীয় জনতা ও ভক্তরা অমিত শাহের পুজোতে অংশগ্রহণকে উদ্দীপনা এবং আনন্দের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানান। অনেকেই বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতি মন্দির এবং স্থানীয় সমাজের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি রাজনৈতিক সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি চেষ্টা।
ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি মন্দিরের মহাপরিচালকও জানান, “আমরা আনন্দিত যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই পুজোতে উপস্থিত হলেন। এটি মন্দিরের মর্যাদা ও ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে। ভক্তদের জন্য এটি একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।” এই পুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মন্দির কমিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সমস্ত অনুষ্ঠানটি শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সম্পন্ন হয়। অমিত শাহ মন্দির থেকে প্রস্থান করার সময় স্থানীয় ভক্তরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানায় এবং ফুলের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
