কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এক রাজনৈতিক সভায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। চিটফান্ড দুর্নীতি থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, আবাস যোজনা এবং একশো দিনের কাজের প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার একাধিক অভিযোগ উঠে আসে, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আজ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।” তাঁর দাবি, চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা লুট হয়েছে, অথচ এখনও বহু মানুষ ন্যায্য বিচার পাননি। একইভাবে নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের শিক্ষিত যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। রেশন দুর্নীতি নিয়েও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য ঠিকমতো তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি। আবাস যোজনা ও একশো দিনের কাজের প্রকল্পেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অমিত শাহের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার টাকা পাঠালেও রাজ্য স্তরে সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি, যার ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হয়েছেন।
সবচেয়ে তীব্র ভাষায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি প্রশ্ন করেন। অমিত শাহ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কি জবাব দিতে পারবেন, আপনারই এক মন্ত্রীর ঠিকানা থেকে ২৭ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে?” তিনি কটাক্ষ করে আরও বলেন, এত টাকা গুনতে গিয়ে নোট গোনার মেশিন পর্যন্ত গরম হয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি শাসকদলের শীর্ষ স্তরের দুর্নীতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
এর পাশাপাশি ‘দুর্গা অঙ্গন’ প্রকল্প নিয়েও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি বলেন, “বঙ্গবাসীর বুকে এখন মলম লাগানোর চেষ্টা চলছে।” তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও ব্যর্থ শাসনের কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ, আর সেই ক্ষোভ চাপা দিতেই এখন ধর্মীয় আবেগকে সামনে এনে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করা হচ্ছে। অমিত শাহের মতে, দুর্গা অঙ্গন প্রকল্প আদতে একটি রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে ভোটের আগে মানুষের আবেগকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি মানুষের কল্যাণই উদ্দেশ্য হতো, তাহলে এতদিন এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কেন? তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিকেই প্রধান ইস্যু করে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামতে চাইছে। তাঁর ভাষায়, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনের জন্য তারা প্রস্তুত। বিজেপি এই বার্তা নিয়েই জনতার কাছে যাবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
