
কলকাতা: রাজ্যের শিশুদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কাফ সিরাপ আলমন্ট কিড সিরাপ নিষিদ্ধ (Almont Kid Cough Syrup Ban) ঘোষণা করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ নম্বর EL 24002-এর সিরাপে বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যাওয়ায় রাজ্যজুড়ে এই সিরাপ ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে অবিলম্বে এই ব্যাচের সিরাপ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্যাচের সিরাপে ইথিলিন গ্লাইকল নামের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো রয়েছে। ইথিলিন গ্লাইকল একটি বর্ণহীন, মিষ্টি স্বাদের তৈলাক্ত তরল, যা সাধারণত গাড়ির অ্যান্টিফ্রিজ ও কুল্যান্ট, প্লাস্টিক এবং পলিয়েস্টার ফাইবার তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিলিন গ্লাইকল শরীরে প্রবেশ করলে প্রথমে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে এবং স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চিকিৎসা না পেলে শ্বাসকষ্ট, অচেতনতা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। মিষ্টি স্বাদের কারণে শিশুরা সহজেই এই সিরাপ পান করে ফেলতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
এই ঘটনার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের সমস্ত স্টকিস্ট, ডিস্ট্রিবিউটর এবং হোলসেলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা কোনও অবস্থাতেই এই ব্যাচের সিরাপ বাজারে সরবরাহ না করেন। যেসব দোকান বা মেডিক্যাল স্টোরে এখনও এই সিরাপ মজুত রয়েছে, সেগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার বিভিন্ন বড় হাসপাতালেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়ার আগে ব্যাচ নম্বর যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ব্যাচের সিরাপ ব্যবহার করা হলে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য দফতর সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয়েছে, যদি বাড়িতে আলমন্ট কিড সিরাপ থাকে, তবে অবশ্যই ব্যাচ নম্বর পরীক্ষা করতে হবে। যদি EL 24002 ব্যাচের সিরাপ থাকে, তবে তা কোনও অবস্থাতেই শিশুকে দেওয়া যাবে না এবং দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা ওষুধের দোকানে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শিশুদের ওষুধের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বাজারে ভেজাল বা বিষাক্ত ওষুধ ঢুকে পড়া রুখতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।










