
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করতে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুক্রবার কলকাতায় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে প্রায় ৫,০০০-এর বেশি নেতা ও কর্মীর সামনে তিনি তুলে ধরবেন তৃণমূলের আগামী দিনের রণকৌশল ও তথাকথিত ‘ভিক্টরি ব্লুপ্রিন্ট’।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের এপ্রিলের কাছাকাছি সময়ে বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে ধরে নিয়েই এখন থেকে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালে রাজ্যের ২৯২টি আসনের মধ্যে ২১৫টিতে জয় পেয়েছিল শাসক দল। তবে এবার লক্ষ্য সেই ফলকে ছাপিয়ে যাওয়া এবং জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ানো।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে—ভোটার তালিকা সংশোধন, বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরেও কীভাবে মানুষের আস্থা ধরে রাখা যায়, তার রূপরেখা।
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে বিশেষ কাউন্টার ও সহায়তা কেন্দ্র খুলে সাধারণ ভোটারদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যাঁদের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ পড়েছে, তাঁদের সমস্যা সমাধানে জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে এনুমারেশন ফর্ম পূরণে সহায়তা করা হলেও এখন মূল লক্ষ্য সেই সব প্রকৃত ভোটার, যাঁরা নানা প্রশাসনিক জটিলতায় ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, কোনও প্রকৃত ভোটার যেন বাদ না পড়ে, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল এবং তাদের ভোটব্যাঙ্কও উল্লেখযোগ্য। তবে তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে, বিজেপিকে একমাত্র সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে পরাজিত করার ক্ষমতা এখনও তাদের হাতেই রয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে নিয়মিত দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দলীয় সূত্রের মতে, শক্তিশালী নির্বাচনী ফলাফলই এই অভিযোগগুলোর সবচেয়ে বড় জবাব হবে।
এদিনের ভাষণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বরখাস্ত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়েও অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে কোনও বিভাজন যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও দল সতর্ক।
২০১১ সাল থেকে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তাই সরকারের সামাজিক প্রকল্প, উন্নয়নমূলক কাজ এবং জনমুখী সিদ্ধান্তগুলি আরও জোরালোভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন দলের অন্যতম লক্ষ্য।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী-সহ বিভিন্ন রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুফল তুলে ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রকল্পের পার্থক্য স্পষ্ট করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এবার লক্ষ্য শুধু ক্ষমতায় ফেরা নয়, বরং রেকর্ড ব্যবধানে জয় এনে জাতীয় রাজনীতিতে দলের গুরুত্ব আরও বাড়ানো।










