কলকাতা: তিলোত্তমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সেতু বিদ্যাসাগর সেতু (Vidyasagar Setu) ফের সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে চলেছে। শহরের যান চলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে। মূলত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশন এবং কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ।
কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যাসাগর সেতুর উপর দিয়ে সমস্ত ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ফলে উত্তর কলকাতা ও হাওড়া থেকে দক্ষিণ কলকাতায় যাতায়াতকারী হাজার হাজার যানবাহনকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে।
হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশন সূত্রে খবর, ওই সময় সেতুর গুরুত্বপূর্ণ স্টে কেবল, হোল্ডিং ডাউন কেবল এবং বিয়ারিং পরিবর্তনের কাজ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংস্কার কাজের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যাসাগর সেতু প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লক্ষের বেশি যানবাহন বহন করে। অফিসযাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক, সরকারি ও বেসরকারি বাস, অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেট গাড়ি—সব মিলিয়ে কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বলা চলে এই সেতুকে। ফলে প্রতি রবিবার এই সেতু বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
অনেক যাত্রীর বক্তব্য, রবিবার মানেই যে সকলের ছুটি থাকে এমনটা নয়। বহু বেসরকারি সংস্থা, হাসপাতাল কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিবহণ কর্মী এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কাজ করতে হয়। তাঁদের জন্য প্রতি রবিবার এই সেতু বন্ধ থাকায় অফিস পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়তে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দেরি হচ্ছে কর্মস্থলে পৌঁছতে।
কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন যানবাহন চলাচলের জন্য হাওড়া ব্রিজ, বকুলতলা ব্রিজ এবং দ্বিতীয় হুগলি সেতুর সংলগ্ন বিকল্প রুটগুলি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে যানজট এড়াতে সকাল থেকেই বাড়তি ট্র্যাফিক মোতায়েন থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেতুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেবলের অবস্থা বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। সেই কারণেই ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিপর্যয় এড়াতে আগেভাগেই একাধিক ধাপে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সাময়িক বন্ধ রাখা প্রয়োজন, তবে সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি—এই সংস্কার কাজ যদি রাতের দিকে করা হত, তাহলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমত।


