I left TMC for corruption and dictatorship,” explosive Jahar Sarkar
পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই ঘটনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের (tmc) প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ জওহর সরকার আজ, বৃহস্পতিবার, দল ছাড়ার কারণ স্পষ্ট করে বলেছেন, “দুর্নীতি ও স্বৈরাচার খুব বেশি বেড়ে গিয়েছিল।”
একটি এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, “লোকে আমাকে জিজ্ঞাসা করে কেন আমি টিএমসি-র সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আমার বিবেক কি আমাকে এমন পচনের অংশ হতে দিত? আমি টিএমসি-তে যোগ দিয়েছিলাম কারণ এটি সাম্প্রদায়িক, ফ্যাসিস্ট বিজেপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা। আমি চলে এসেছি কারণ টিএমসি-র দুর্নীতি ও স্বৈরাচার খুব বেশি হয়ে গিয়েছিল।”
শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সরকারের (tmc) পরাজয়
সুপ্রিম কোর্টে আজ শিক্ষক নিয়োগ মামলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এই মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আমলে নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আদালত রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের পক্ষে দেওয়া যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বলেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং এটি বাতিল করা হবে।
এই রায়ে প্রায় ২৫,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে। তবে, এই ঘটনা তৃণমূল সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
CISF কনস্টেবলের 1161টি পদের জন্য অবিলম্বে আবেদন করুন, আজই শেষ তারিখ
জওহর সরকারের অবস্থান
প্রাক্তন আইএএস অফিসার জওহর সরকার, যিনি প্রসার ভারতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ২০২১ সালে তৃণমূল (tmc) কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন এবং রাজ্যসভার সাংসদ নিযুক্ত হন। তবে, ২০২৪ সালে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের ধর্ষণ-হত্যার ঘটনার পর তিনি দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন।
সেই সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা একটি খোলা চিঠিতে দলের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ তুলে ধরার সময় তৃণমূলের একাংশ তাঁকে উপহাস করেছিল।
আজকের এক্স পোস্টে তিনি আরও বলেন, “আমি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে টিএমসি-তে গিয়েছিলাম। কিন্তু দলের ভেতরের দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্র আমার সহ্যের বাইরে চলে গিয়েছিল।” তাঁর এই মন্তব্য শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে আরও সামনে এনেছে।
দলের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা
সরকারের ইস্তফার পর থেকে তিনি তৃণমূলের নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দুর্নীতির প্রমাণ আমি দলের সামনে তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু আমাকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা দলের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের (tmc) একাংশ সরকারের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “জওহর সরকার দল ছেড়ে যাওয়ার পরেও আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তিনি যদি এতই নীতিবান হন, তবে তিনি দলের মধ্যে থেকে লড়াই করতে পারতেন।” অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “সরকারের কথায় প্রমাণিত হয় তৃণমূলের ভেতরে কী চলছে। এই দুর্নীতি এখন সবার সামনে এসে গেছে।”
বামফ্রন্ট নেতা বিমান বসু বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি তৃণমূলের শাসনের একটি বড় দাগ। সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং সরকারের মন্তব্য এই সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ।” তবে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও সরকারের মন্তব্যে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জনমত ও প্রভাব
সামাজিক মাধ্যমে সরকারের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তাঁর সততার প্রশংসা করলেও, কেউ কেউ মনে করেন তিনি দলের প্রতি অবিচার করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “জওহর সরকার সঠিক বলেছেন। তৃণমূলের দুর্নীতি আর লুকানো যাচ্ছে না।” আরেকজন লিখেছেন, “তিনি চলে গিয়ে কী লাভ হল? এখন শুধু সমালোচনা করছেন।”
শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং সরকারের মন্তব্য তৃণমূলের জন্য একটি রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং শাসনের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
আগামীর সম্ভাবনা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সাড়া দেন, তা নিয়ে সবার নজর রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ এবং দলের ইমেজ পুনরুদ্ধার এখন তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের মতো প্রাক্তন নেতারা যদি আরও সরব হন, তবে তৃণমূলের উপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জওহর সরকারের মন্তব্য তৃণমূলের জন্য একটি কঠিন সময়ের সূচনা করেছে। দলের দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের অভিযোগ এখন জনসমক্ষে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।