দেশজুড়ে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD weather alert) জানিয়েছে, ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া, ঘন কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ এবং পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সক্রিয় একাধিক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণ থেকে উত্তর ভারত পর্যন্ত আবহাওয়ার চরম রূপ দেখা যেতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, সমুদ্র তল থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি, ৩.১ কিলোমিটার উচ্চতায় আরেকটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঘূর্ণাবর্তের আকারে অবস্থান করছে। দক্ষিণ কেরলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর ভারতের উপর সক্রিয় ওয়েস্টার্ন জেট স্ট্রিম মিলিতভাবে দেশের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন ঘটাতে চলেছে। এই সমস্ত আবহাওয়া ব্যবস্থার ফলে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও তাপমাত্রার বড় ওঠানামা দেখা যাবে।
IMD জানিয়েছে, কেরল, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, পঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পুদুচেরি, মাহে এবং করাইকাল অঞ্চলে আগামী চারদিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে দমকা হাওয়ার গতি বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশে আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তরাখণ্ডেও। সেখানে টানা বৃষ্টির সঙ্গে ঠান্ডার দাপট বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামার আশঙ্কা থাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজস্থান ও উত্তর ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও আবহাওয়ার পরিবর্তন স্পষ্ট। রাজস্থানে শীতের প্রভাব বাড়লেও আপাতত শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা নেই। তবে ২১ ডিসেম্বর একটি নতুন আবহাওয়া ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় রাজ্যের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সকালের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে। পঞ্জাব ও হরিয়ানায় কুয়াশার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশ, বিহার, পঞ্জাব ও হরিয়ানার কিছু অংশে আগামী কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভোর ও রাতের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, রেল এবং বিমান পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বড়দিনের পর থেকে রাজ্যে ফের তাপমাত্রা কমবে। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে, যা ২৫ ডিসেম্বরের পর আরও ২ ডিগ্রি কমতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি এবং উপকূলবর্তী এলাকায় ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গে শীতের দাপট তুলনামূলক বেশি। দার্জিলিঙে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। উপরের পাঁচ জেলায় তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি এবং মালদহ-সহ নীচের জেলাগুলিতে ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনে তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে, কুয়াশা প্রবণ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে IMD।
