
পূর্বঘোষণা মাফিক সোমবার মির্জাপুর থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর নতুন দলের নাম ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। চারিদিকে পড়ল পোস্টার৷ যদিও দলের প্রতীক এখনও চূড়ান্ত হয়নি, রাজনৈতিক মহলে জোর শোনা যাচ্ছে, ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ব্যবহৃত ‘টেবিল’ প্রতীকের দিকে নজর থাকতে পারে।
টার্গেট ৯০ আসন
হুমায়ুন কবীরের ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ গড়ে দিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয়লাভ করতে হবে তাঁর দলের, যাতে সরকার গঠনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে উঠে আসা সম্ভব হয়। তাঁর দাবি, তৃণমূল বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলে কেউই বাবরি মসজিদ গড়তে দেবে না। হুমায়ুনের বক্তব্য, “টাকা-জমি দিয়ে বাবরি মসজিদ করা যাবে না। আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষ যতক্ষন ক্ষমতায় আসছেন, ততক্ষণ কেউ এই মসজিদ করতে দেবে না। তাই আগামী নির্বাচনে অন্ততপক্ষে ৯০টি আসনে আমাদের জিততে হবে। এ দল হবে আপনাদের দল।”
বাম-কংগ্রেস জোটের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রস্তাব
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে হুমায়ুনের দল ১৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাম-কংগ্রেস জোটের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। হুমায়ুনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে তিনি ৯টিতে লড়বেন, অধীর চৌধুরীর কংগ্রেসকে ৯টি আসন, সিপিএমকে ৩টি এবং নওশাদের দলকে ১টি আসন বরাদ্দ থাকবে। এতে তৃণমূল কোনো আসনে থাকছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বাংলা রাজনীতিতে দল বদলের ধারা আরও জোরদার হচ্ছে। নওশাদ সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) গতবার বাম-কংগ্রেস জোটকে চমকে দিয়ে লড়েছিল। এবার জনতা উন্নয়ন পার্টি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এছাড়া আসাদউদ্দিন ওয়েইসির AIMIM মালদা ও মুর্শিদাবাদসহ মুসলিম অধ্যুষিত জেলায় প্রার্থী দিতে পারে, যা মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে এই নতুন রাজনৈতিক দল এবং ভোট সমীকরণের পরিবর্তন রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি করছে। হুমায়ুন কবীরের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি ভবিষ্যতের নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।




