কলকাতা: টলিপাড়ার অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এখন তুঙ্গে। হিরণ ও তাঁর তথাকথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি থানায় গিয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন অভিনেতার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তবে এই পুরো বিতর্কে সবচেয়ে বড় চমক নিয়ে এলেন হিরণের ১৯ বছর বয়সী কন্যা নিয়াসা। তাঁর দাবি, ঋতিকা তাঁকে ফোন করে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
ঋতিকার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগ
হিরণ-কন্যা নিয়াসার দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ঋতিকা গিরি নিজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। নিয়াসা বলেন, “প্রথমে আমায় মিসড কল দেয়, তারপর মেসেজ করে বলে, তুমি খুশি থাকো, আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছি।” মা ও মেয়ের দাবি, এই ঘটনা ঘটার পর হিরণ ভয়ে খড়গপুর ছেড়ে কলকাতার আর্বানা আবাসনে তাঁদের কাছে চলে আসেন এবং টানা ৫ মাস সেখানেই ছিলেন।
অনিন্দিতার দাবি, হিরণ তাঁদের জানিয়েছিলেন যে ঋতিকা তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছেন। এমনকি তাঁর কাছে বাবার লেখা মেসেজের একাধিক স্ক্রিনশট রয়েছে বলেও দাবি করেছেন নিয়াসা।
ব্যাঙ্কক সফর ও ছবি বিতর্ক
ঋতিকা দাবি করেছিলেন যে ৯ নভেম্বর থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিরণ তাঁর মেয়ের জন্মদিন পালন ও ব্যক্তিগত কারণে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু অনিন্দিতা পাল্টে দিয়ে জানান, সেই সময় হিরণ ঋতিকার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। অনিন্দিতা বলেন, “হিরণ খড়গপুর থেকে পালিয়ে ব্যাঙ্কক চলে গিয়েছিল। আমাদেরও টিকিট কেটে সেখানে যেতে বলেছিল। আমরা গিয়েছিলাম, মেয়ের জন্মদিন পালন করেছি, সেই সব ছবি আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় আছে।”
অনিন্দিতা আরও প্রশ্ন তোলেন, ২০২১ সালে হিরণ যখন ভোটে দাঁড়ান, তখন তিনি ঋতিকাকে চিনতেনই না। তাহলে গত ৫ বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে আছেন, এই দাবি কী করে সত্যি হয়?
“ডিভোর্স দিক, তারপর যা খুশি করুক”
থানায় দাঁড়িয়ে অনিন্দিতা সরাসরি ঋতিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ওই টুকু একটা মেয়ের এত সাহস হয় কী করে? বার্থ সার্টিফিকেট দেখিয়ে বয়স প্রমাণ করুক। আমি ২৫ বছর সংসার করেছি। ভিয়েতনামে ঘুরে বেড়িয়ে সিঁদুর পরলেই বিয়ে হয়ে যায় না। হিরণ আগে আমায় ডিভোর্স দিক, তারপর ও যা খুশি করুক।”
বিজেপি বিধায়কের ব্যক্তিগত জীবনের এই কাদা ছোড়াছুড়ি এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
